অনেক লড়াই করতে হয়েছে। তথ্যের অধিকার পাওয়ার লক্ষ্যে আন্দোলন শুরু হয় ৪৩ বছর আগে। পরে, ক্রমশ শক্তিশালী হয়েছে। অরুণা রায় প্রমুখ সমাজকর্মীর দীর্ঘস্থায়ী এবং আপসহীন লড়াইয়ে ফল পাওয়া যায় ইউপিএ সরকারের আমলে। অবশেষে তথ্যের অধিকার আইন। প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, কিন্তু খাদ্য ও কাজের অধিকার প্রকল্পের মতো, তথ্যের অধিকার বিল আনার এবং পাশ করানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর। সব তথ্যই যে পাওয়া যায়, তা বলা যাচ্ছে না। সীমাবদ্ধতা আছে। কিছু ক্ষেত্রে শাসক দল এড়িয়ে যায়, চেপে দেয়, প্রকাশিত হতে দেয় না। তবু, বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যই প্রকাশিত হয়েছে। মানুষ তথ্য চান, নির্দিষ্ট, তা পাওয়ার একটা রাস্তা খুলে গেছে। ‘‌গেছে’‌ বলা যাচ্ছে না আর, গিয়েছিল। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো তথ্য কমিশনকেও দুর্বল করে দিয়েছে মোদি সরকার। তথ্য কমিশনার ছিলেন নির্বাচন কমিশনার–‌এর সমপর্যায়ের, মর্যাদা পেতেন পূর্ণমন্ত্রীর মতো। কেন্দ্রীয় সরকার তথ্য কমিশনারকে আর গুরুত্বের জায়গায় রাখল না। তথ্য কমিশনারকে মেয়াদের আগেই সরাতে পারবে কেন্দ্র। যে আনুষ্ঠানিক মর্যাদা ছিল, তা–‌ও থাকল না। স্মৃতি ইরানির শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল অসংখ্য। তথ্যের অধিকার–‌এ জানতে চাওয়া হয়েছে, সত্যটা চেপে রাখতে পারেননি মন্ত্রীমহোদয়া। পরে মনোনয়নপত্রেও দেখা গেল, অনেক গোঁজামিল। যে–‌তথ্য দিয়েছিলেন, ভুল। প্রচার, নরেন্দ্র মোদি নাকি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক। জানতে চাওয়া হয়েছিল দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে। সরকারের অঙ্গুলিহেলনে বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, সেই কয়েক বছরের নথি পাওয়াই যাচ্ছে না!‌ এবার তথ্যই অধিকার করল বিজেপি সরকার।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top