অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলে দিলেন, জোটে নয়, লোকসভা ভোটে পাঞ্জাব ও হরিয়ানাতেও আলাদাভাবে লড়বে আম আদমি পার্টি। বলা বাহুল্য, দিল্লিতেও তা–‌ই। বিরোধী শিবিরে সবচেয়ে ‘‌বড়’‌ দল কংগ্রেস। রাহুল গান্ধী নাকি চাইছেন, রাজ্যে রাজ্যে প্রয়োজনে দলের দিক থেকে কিছু ত্যাগ স্বীকার করেও জোট করতে হবে। প্রধান লক্ষ্য, বিজেপি–‌কে সরানো। তাই যদি হয়, আপ–‌এর সঙ্গে এমন আচরণ কেন?‌ রাজ্যসভায় ডেপুটি চেয়্যারম্যান পদে নির্বাচনে বিরোধী প্রার্থীকে ভোট দিতেন আপ–‌এর ৩ সদস্য। কেজরিওয়াল শুধু চেয়েছিলেন, রাহুল যেন একটা ফোন করেন। কংগ্রেস প্রার্থীর হয়ে ফোন করতে পারলেন না কেন কংগ্রেস সভাপতি?‌ দিল্লি কংগ্রেসের নেতারা অবিরাম আক্রমণ করে চলেছেন কেজরিওয়ালের সরকারকে। সুর বিজেপি–‌র মতোই চড়া। মমতা ব্যানার্জির কথায় কেজরিওয়াল বিরোধী জোটে থেকেছেন। লোকসভায় দিল্লির আসন ৭। এখন সবটাই বিজেপি–‌র দখলে। গত বিধানসভা ভোটে ৭০–‌এর মধ্যে ৬৭ আসন পেয়েছে আপ। তবু, আসন্ন লোকসভা ভোটে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করতে ইচ্ছুক ছিলেন কেজরিওয়াল। চেয়েছেন, ৭–‌এর মধ্যে ৪ আসন বরাদ্দ হোক তাঁদের জন্য, বাকি ৩ আসনে লড়ুক কংগ্রেস। বিজেপি–‌র বিপর্যয় নিশ্চিত হত, ৭ থেকে সম্ভবত শূন্যে নেমে আসত। শীলা দীক্ষিত ও অজয় মাকেন এখন ঝগড়া মিটিয়ে একজোট। তাঁরা রাহুলকে বোঝাচ্ছেন, বিজেপি জনপ্রিয়তা হারিয়েছে, আপ দুর্বল হয়ে গেছে, কংগ্রেস একা লড়েই প্রায় সব আসন পেতে পারে। সাধারণ হিসেব বলছে, আপ ও কংগ্রেস আলাদা লড়লে সুবিধে হবে অমিত শাহদের। জোট এবং না–‌জোটের মধ্যে তফাত হতে পারে অন্তত ৫টি আসন। ভোট–‌পরবর্তী পরিস্থিতিতে এই ৫ সংখ্যাটা কি গুরুত্বপূর্ণ নয়?‌ যদি বিজেপি–‌কে হারানোই প্রধান লক্ষ্য হয়, রাজ্য নেতাদের কথায় বিভ্রান্ত না হয়ে, কেজরিওয়ালের সঙ্গে রফায় যাচ্ছেন না কেন রাহুল?‌ পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় আপ–‌এর শক্তি নিতান্ত কম নয়। গত ভোটে পাঞ্জাব থেকে একাধিক আসন পেয়েছে, হরিয়ানায় তিন কেন্দ্রে যথেষ্ট লড়েছে। আপ আলাদা লড়লে, চার–‌পাঁচটা আসন বিরোধীদের হাত থেকে বেরিয়ে যাবে। দিল্লি, পাঞ্জাব, হরিয়ানা মিলিয়ে প্রায় দশটা আসন নিশ্চিত থেকে অনিশ্চিত হয়ে যাবে। কিছু করবেন না রাহুল?‌ বুঝছে না কংগ্রেস?‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top