প্রচেত গুপ্ত: করোনার এই ভয়ঙ্কর সময়ে অনেক রকম ভেজাল দেখছি।
যেমন মাস্ক। যে যেমন খুশি বানিয়ে বাজারে বিক্রি করছে। চড়া দাম হঁাকছে। সামান্য কাপড়ের মাস্ক ওষুধের দোকানে তিনশো, চারশো, আটশো টাকা পর্যন্ত দাম বলতে শুনেছি। ভেজাল হ্যান্ড স্যানিটাইজারও দেখলাম। নিয়ম মেনে বানানো হয়নি, তারপরেও দিব্যি শিশিতে ভরে বিক্রি চলেছে। শুনেছি, শুধু জলও বেচে দিয়েছে।
তবে সব থেকে বেশি দেখছি ভেজাল মানুষ। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, ভেজাল মানুষের ভেজাল দরদ। ‘‌কষ্ট পাওয়া’‌ মানু্ষের জন্য ভেজাল দরদিরা এমন কেঁদে ভাসাচ্ছে যে, ভয় করছে, জলটল জমে একটা কেলেঙ্কারি না হয়ে যায়। এই ভেজাল মানুষেরা যদি আগে এত দরদের ছিটেফোঁটাও দেখাত, পৃথিবীতে মানুষের কষ্ট অনেক কমে যেত। ভেজাল দরদের সঙ্গে ভেজাল ‘‌কাজ’ও দেখছি। যে ‘‌কাজ’‌ এখন কম করলে বা না করলেও‌ চলে, কেউ কেউ এই সময়ে লাফিয়ে ঝঁাপিয়ে সেই ‘‌কাজ’‌ করছে। বাড়িতে বসে যা করা যায় তা বাইরে বেরিয়ে করে বিরাট বীরত্ব দেখাচ্ছে। একে কী বলব?‌ ‘‌জাতের নামে বজ্জাতি’‌র মতো ‘‌কাজের নামে কাজ্জাতি’‌?‌ ‘‌কাজ্জাতি’‌র কোয়ালিটি যে অতি নিম্নমানের হচ্ছে তা একবারও ভাবছে না। ভাববে কী, বুঝতেও পারছে না। ভাবছে, নিষেধের সময় ঘরের বাইরে বেরিয়ে আমি বিরাট ‘‌দায়িত্ব’‌ দেখালাম। দেশোদ্ধার করলাম। আসলে ‘‌কাজ্জাতি’‌র জন্য যে দেশের ক্ষতি হচ্ছে কে বোঝাবে?‌ এদের যুক্তি অনেকটা এরকম, ‘‌আরে বাবা জিরেফোড়নটা তো আনতে হবে। রঁাধতে তো হবে। খেতে তো হবে। ডাক্তারও তো বেরোচ্ছে, পুলিশও তো বেরোচ্ছে। এত ভয় কীসের?‌ আসলে তুমি ভিতু।’‌
ওগো আমার জিরেফোড়ন সাহসী‌, এই সময়ে ডাক্তার, পুলিশের দায়িত্ব বাইরে বেরিয়ে কাজ করা, আর তোমার দায়িত্ব ঘরে থাকা। তুমি তোমার দায়িত্বটুকু পালন করো না বাপু। জিরেফোড়ন ছাড়াই ক’‌দিন রান্না হোক। অন্য সময় তো তোমারও বাইরের দায়িত্ব থাকে। কারও কাজই ছোট নয়। এটা কেন মাথায় ঢুকছে না, তোমার অসুখ হলে, শুধু তোমার হবে না। তুমি তো শ–‌তিনেককে জড়িয়ে অসুস্থ হবে। তার মধ্যে ডাক্তার, পুলিশ সবাই থাকবে।
জিরে ফোড়নটোড়ন অজুহাত, আসলে এটা এক ধরনের ফুর্তি। ভেজাল বীর এবং ফুর্তিবাজদের বিজ্ঞান, যুক্তি কে বোঝাবে?‌ এদের আমি নাম দিয়েছি ‘‌ইতালি’‌।
এর সঙ্গে আর একরকম ভেজাল জুটেছে। ভেজাল বৈজ্ঞানিক। বাপরে কত জানে!‌ ফোনে কথা বললেই হড়হড় করে বলতে শুরু করে। করোনার বাপ, চোদ্দোপুরুষের খবর জেনে ফেলেছে। প্রোটিনের প্রোফাইল বলছে, ফ্যাটের হিসেব কষছে, সাবানের ফেনার টাইম মাপছে। ভারতে কবে কমবে, জার্মানিতে কবে বাড়বে— সব জানে। যেন এই মুহূর্তে উনি পিটসবার্গ গবেষণাগার থেকে বেরোলেন। এবার হাত ধুয়ে গাড়িতে উঠবেন।
ভেজাল জিনিসে ধরপাকড় রয়েছে। ভেজাল মানুষে তো ধরপাকড় নেই। হলে ভাল হত।
তবে সেদিন অপু একটা মারাত্মক ভেজালের খবর বলল। দে’‌জ–এ‌র অপু। এটাই তার একমাত্র পরিচয় নয়। সে একজন মিষ্টি স্বভাবের, সদাহাস্যমুখের তরুণ। লেখার হাতটিও চমৎকার। সে আবার দু্ষ্প্রাপ্য, দুর্মূল্য লেখালিখি, বই, চিঠি, দলিল–দস্তাবেজের সংগ্রাহক। সেই অপু যখন আমাকে ভেজালের খবর বলল, আমি চমকে উঠলাম। এমনও হয়!‌ সে হোয়াটসঅ্যাপে সবটা পাঠাল।
করোনা উপলক্ষে শঙ্খ ঘোষের নামে নাকি ‘‌ভেজাল কবিতা’‌ ছড়ানো হয়েছে। বোঝো কাণ্ড!‌
অন্য একজনের কবিতা। কবির নাম বদলে সোশ্যাল মিডিয়ায় কে বা কারা ছেড়ে দিয়েছে। কবিতা বন্‌বন্‌ করে ঘুরেছে। মজার কথা হল, সোশ্যাল মিডিয়ার বোদ্ধাদের অনেকেই ‘‌আহা, উহু, অপূর্ব, অসামান্য’‌ বলে ফরোয়ার্ড করে ফেলেছে। একবারও সন্দেহ হয়নি যে এমন একটা তৃতীয় শ্রেণির কবিতা অতবড় একজন কবির হাত থেকে কখনও বেরোতে পারে!‌‌ কেমন বোদ্ধা একবার ভাবুন। এখানেও আবার সেই ভেজাল। ভেজাল বোদ্ধা। এই ভেজালের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবে শঙ্খ ঘোষের পরিবারের মানুষরা খুবই বিরক্ত। বিরক্ত কবি নিজেও। কবির কন্যারা সোশ্যাল মিডিয়াতেই লিখেছেন—
এ তো আর এক মুশকিল। ‘‌আমাদের দেখা হবে মহামারী শেষে’‌। এরকম একটা খারাপ কবিতা বাবার লেখা বলে ঘুরে বেড়াচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপে!‌ জঘন্য ব্যাপার‍‌!‌ বাবা জেনে গেছে এবং স্বভাবতই খুব বিরক্ত, অস্থির। তাই জানিয়ে রাখলাম, এটা শঙ্খ ঘোষের লেখা নয়, হতে পারে না। সবাই সবাইকে বলুন।‌
একে কী কাণ্ড বলব?‌
এ প্রসঙ্গে আর এক কবির কথা বলি। জয় গোস্বামী। সেদিন ‘‌প্রতিবিম্ব’‌ পত্রিকার সম্পাদক প্রশান্ত মাজির বাড়িতে দেখা হয়েছিল। কাবেরী বৌদিও ছিলেন। খানিকক্ষণ চমৎকার সময় কাটল। জয়দা তো কথা কম বলেন। সেদিন অনেকক্ষণ গল্প হল। আমাকে ওঁর সদ্য প্রকাশিত গল্প সঙ্কলনটি উপহার দেবেন বললেন। আমি কৃতার্থ হলাম, আবার লজ্জাও পেলাম। বললাম, ‘‌আমি সংগ্রহ করে নেব।’‌
জয়দা বললেন, ‘‌তা কেন?‌ আমি আপনাকে লিখে দেব।’‌
আমি খুব খুশি হলাম, ‌আবার সঙ্কুচিতও হলাম। বললাম, ‘‌আমি গিয়ে নিয়ে আসব।’‌  
জয়দা বললেন, ‘‌আমিই আপনাকে পৌঁছে দেব।’‌
বুঝলাম, বড় কবিই পারেন এমন কথা বলতে। তঁাকেই মানায়। লকডাউনের মধ্যে ফোনে কথা হতে বেশিরভাগই আতঙ্কিত গলায় আর্তনাদ করে উঠছে।
‘‌কী হবে?‌ ‌লকডাউন কি থাকবে?‌ না কি উঠবে?‌’‌
জয়দা সেদিন ফোনে শান্তভাবে বললেন, ‘‌আপনাকে বইটা এখনও দিতে পারলাম না। এই ক’‌টা দিন যাক, আমি একটা ব্যবস্থা করব।’‌
এরকম একটা সংশয়ের সময়ে, এরকম একটা অস্থির সময়ে যার অজস্র গুণমুগ্ধ, তিনি কিনা আমার মতো অতি নগণ্য একজনকে বই দেওয়ার কথা মনে রেখেছেন‍‌!‌
কেমন আছেন জানতে ফোন করেছিলাম ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়কে। এমন খঁাটি মনের মানুষ এই ভেজাল যুগে বিরল। বইমেলায় আজও পঞ্চপাণ্ডবখ্যাত এই মানুষটার সামনে ছোটদের অটোগ্রাফ নেওয়ার লাইন দেখলে অবাক হতে হয়। ছোটরা এত বই পড়ে!‌ ষষ্ঠীদার কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও অ্যাকাউন্ট নেই। ও সব কী উনি জানেনই না। নিজের জন্য প্রচার বলতে ওই বইমেলাটুকুতে যাওয়া। সেদিন ফোন করতে বললেন, ‘জানেন, বয়স আশি হয়ে গেল। শুগারেরও সমস্যা।’‌
আমি প্রসঙ্গ হালকা করার জন্য বললাম, ‘করোনা নিয়ে ‌ভয় পাবেন‌ না।’‌    ‌
ষষ্ঠীদা বললেন, ‘ভয় পাই না, কিন্তু চিন্তা হয়।’‌
আমি মজা করে বললাম, ‘‌কীসের চিন্তা?‌’‌
‌ষষ্ঠীদা হেসে বললেন, ‘‌পাণ্ডবগোয়েন্দার কাহিনি চুয়াল্লিশটার মতো হয়েছে, পঞ্চাশটা করতে হবে তো।’‌
আমি হইহই করে বললাম, ‘হবেই তো।’‌
ষষ্ঠীদা বললেন, ‘একটা লেখা শুরুও করে দিয়েছি। মজা পাচ্ছি।’‌
আশি বছরের ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়ের এই কথা শুনে কারও যদি লকডাউনের বেজার ভাব না কমে তাহলে কিছু করার নেই‌।
আর একদল মানুষের দায়িত্বের কথা বলি। এদের কথা কারও মুখে শুনছি না। সোশ্যাল মিডিয়াতেও আসছে বলে শুনিনি। সবাই যেন এদের কথা বলতে ভুলে গেছে। স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, মিডিয়া স্যালুট পাচ্ছে, হাততালি পাচ্ছে, থালা–বাসনের ঝন্‌ঝন্‌ পাচ্ছে, মোমবাতির আলো পাচ্ছে, পাক, পাওয়াই উচিত, কিন্তু এঁদের কিছু জুটবে না?‌‌ কেন?‌ এঁরা নিঃশব্দে কাজ করছেন বলে?‌ এই লকডাউনে, এই আতঙ্কের পরিবেশেও নিয়মিত অফিস যাচ্ছেন বলে? এঁরা কাজ না করলে দেশের অর্থনৈতিক বুনিয়াদ যে এতক্ষণে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ত। বেতন, পেনশন, ভাতা, প্রকল্প, যোজনা সব বন্ধ হয়ে যেত।
হ্যঁা, ঠিকই ধরেছেন, এঁরা ব্যাঙ্ককর্মী।
এতে ছোট, বড়, মেজো, সেজো সবাই রয়েছেন। শুনছি গোটা দেশে নাকি এই মুহূর্তে আট লক্ষেরও বেশি ব্যাঙ্ককর্মী কাজ করছেন। হিসেব একটু এদিক হতে পারে, তা হোক। তাদের কাজ বাড়িতে বসে নয়, অফিসে গিয়ে, মানুষের মুখোমুখি হয়ে। করোনা সংক্রমণের সব রকমের সম্ভাবনা নিয়েই কাজ করতে হচ্ছে। আমার পরিচিত অনেকেই নানাভাবে ব্যাঙ্কের কাজে যুক্ত। শুনছি, যাতায়াতে অসুবিধে, খাওয়া–দাওয়ায় অসুবিধে, স্যানিটাইজেশনেরও অসুবিধে। স্বাভাবিক। কর্তৃপক্ষ যতই চেষ্টা করুন, সবটা পারা অসম্ভব। ওদের হেঁটে বা সাইকেল অফিস যাওয়ার কথা শুনছি। গাড়ি থাকলেও ড্রাইভার আসছেন না। আসতে পারছেন না। কাজ কিন্তু কোথাও থামেনি।
সামান্য এক মানুষের গল্প বলি।
সেদিন ব্যাঙ্কের এক ব্রাঞ্চে এটিএম থেকে টাকা তুলতে গিয়েছিলাম। লকডাউনের খঁা খঁা  দুপুর। কেউ কোথাও নেই। টাকা তোলার যন্ত্রে কিছু ত্রুটি হচ্ছিল। কী করব বুঝতে পারছি না। তাহলে কি ফিরে যাব?‌ কিছু টাকারও যে প্রয়োজন। চাল–ডাল কিনতে হবে। সংশয়ের মধ্যে পড়েছি। কী করব?‌ এতটা পথ পেরিয়ে আবার আসব?‌ ভিতু মানুষ, ভয়ও করে। হঠাৎ কোথা থেকে যেন উপস্থিত হলেন ইউনিফর্ম পরা এক সিকিউরিটি গার্ড। ভদ্রলোক দূর থেকে আমাকে বলে দিতে লাগলেন, আমি তঁার নির্দেশ মেনে যন্ত্রের বোতাম টিপে টিপে টাকা পেয়েও গেলাম। এই ভদ্রলোক হয়তো সরাসরি ব্যাঙ্কের কর্মচারী নন। সামান্য ক’‌টা টাকা এজেন্সি থেকে বেতন পান হয়তো। উনি কোথাকার কর্মী আমার তাতে কিছু এসে যায় না। সেই মুর্হূতে বাকিদের মতো উনিও আমার কাছে ব্যাঙ্কের একজন। আট লক্ষের প্রতিনিধি। আমার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। না দিলেই বা আমি কী করতে পারতাম?‌
মন আনন্দে ভরে গেল। ইচ্ছে হল, চিৎকার করে বলি, ‘‌করোনা, তুমি হেরে যাচ্ছো। দেখো, তুমি হেরো।’‌
কে কী করল না করল আমার কিছু যায় আসে না। ব্যাঙ্কের সব কর্মীকে এবং ব্যাঙ্কের কাজে যুক্ত সবাইকে আমি করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানাই। কোটি মানুষের হুজুগের করতালির থেকে একা মানুষের ভালবাসার করতালি অনেক খঁাটি। অনেক জোরালো তাই না?
আর এক‌ সাধারণ পরিবারের কথা না বলে পারছি না।
শান্তিনিকেতনে টোটো চালায় সোমনাথ। ভাল ছেলে। সোমনাথের গুণ হল, শান্তিনিকেতনের অন্যরকম সব জায়গা ঘুরিয়ে দেখাতে জানে। কোনও দিন হয়তো বিভিন্ন পল্লী ঘুরিয়ে বাগান দেখাল, কোনও দিন তালতোড়ের খোয়াই, কোনও দিন প্রান্তিকের গ্রাম, কোনও দিন নিয়ে যায় ইলামবাজারের জঙ্গলের পথে সরষে খেত দেখাতে। ছেলেটির ভারি সুন্দর রুচি। বেচারি এই লকডাউনের সময় মস্ত বিপদে পড়েছে। ঘরে দুই সন্তান, স্ত্রী, বাবা–‌মা। না খেতে পাওয়া অবস্থা। খবর পেলাম, কলকাতার এক পরিবার সোমনাথকে ফোন করে তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট জেনে কাল না পরশু দু’‌হাজার টাকা পাঠিয়ে দিয়েছে। এই খবর সোমনাথই আমাকে দিয়েছে। ফোনে আমি জিগ্যেস করলাম, ‘এই পরিবার তোমার কে হয়?‌’‌
সোমানাথ বলল, ‘‌কেউ হয় না দাদা। বেড়াতে এলে আমায় ফোন করে। টোটো নিয়ে চলে যাই গেস্ট হাউসে, হোটেলে যেখানে ওঠে। বলে, চলো, ফুল দেখাবে।’‌
আমি এই সাধারণ পরিবারটির পরিচয় জেনেছি, কিন্তু বলব না। যে সাধারণ দুঃসময়ে মানু্ষের পাশে থেকে ‘‌অসাধারণ’‌ হয়ে যায়, তাদের প্রচার দিয়ে ছোট করতে নেই।
এরপরেও কি একটু মন ভাল হবে না?‌ অবশ্যই হবে।
তবে এত কিছুর পরেও আমার মন ভাল নেই।
অনেকে বলছে, ‘‌তুমি নিশ্চয় খুব লিখছ। ‌একটা উপন্যাস, পঁাচটা গল্প কি শেষ হল?‌’‌
যেন লকডাউন মানে লেখার ছুটি। যেন লকডাউন মানে মাথায় গল্পের প্লট আসার দিন। যেন লকডাউনের আগে কিছু লেখা হয়নি। যেন ভাগ্যিস লেখকের জীবনে লকডাউন এসেছিল।
এইসব শুনে আমার মনে হল, ছি ছি!‌ আমার যে কিছু লেখা হচ্ছে না। মন কেন অস্থির?‌ মন কেন বিষণ্ণ? এমন তো হবে না। আমি না লেখক। শোকে–দুঃখে লেখক হবে নিরুত্তাপ। সে শুধু সৃষ্টি করবে।‌‌ মনকে শান্ত করতে হবে। সেদিন লেখার টেবিলে জোর করে বসেছিলাম। আমি পিছিয়ে যাচ্ছি। একটা গল্প লিখতেই হবে। খানিকটা লেখার পর মনে হল, কেউ একজন পেছনে দঁাড়িয়ে। আমি ঘাড় ঘুরিয়ে দেখি, এক তরুণ। ঝঁুকে পড়ে আমার লেখা পড়তে চাইছে। আমি চমকে উঠলাম।
‘‌তুমি কে‌?‌ কে তুমি?‌’
ছেলেটি ফিসফিস করে বলে, ‘‌আমি কপিল।’‌
আমি চাপা স্বরে বলি, ‘‌কপিল!‌ কপিল কে?‌’‌
কপিল আরও গলা নামিয়ে বলে, ‘‌আমি উত্তরপ্রদেশের পিথারোগড়ের কপিল। বিবিএ পড়ি। ফার্স্ট ইয়ার। হস্টেলে থাকি। খাওয়া–থাকার খরচ বাড়ি থেকে পাঠাতে পারছে না। দু’‌দিন‌ আগে আত্মহত্যা করেছি।’‌ এই পর্যন্ত বলে কপিল যেমন ঠোঁটের ফাঁকে হাসে। নাকি কঁাদে?‌ মাথা নামিয়ে বলে, ‘‌আপনি লিখুন স্যর। আমি আপনার লেখা দেখি। লকডাউনের লেখা।’
আমি লিখতে পারছি না। আমি লেখক নই।‌

জনপ্রিয়

Back To Top