বিভাস ভট্টাচার্য: শরীর সুস্থ রাখতে ফুসফুসকেও সতেজ থাকতে হবে। তাকে জোগাতে হবে বিশুদ্ধ অক্সিজেন। এই অক্সিজেন জোগাতে পারে গাছই। কিন্তু আমফানের তাণ্ডবে কলকাতা এবং তার আশপাশে এত গাছ ভেঙে পড়ায় অক্সিজেন কমার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অবিলম্বে গাছ লাগানোর ওপর যদি জোর দেওয়া না হয়, তা হলে ভবিষ্যতে মহানগরীর বাতাসে হেরফের হতে পারে অক্সিজেনের মাত্রা। বেড়ে যাবে শহরের তাপমাত্রাও। অন্যান্য রোগের সঙ্গে বাড়তে পারে বুকের নানা জটিল রোগ। আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পরিবেশ বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকরা।
বায়ুদূষণ নিয়ে আমেরিকায় স্টেট অফ ক্যালিফোর্নিয়া, পাবলিক ইউটিলিটি কমিশন (এনার্জি ডিভিশন)–‌এ কর্মরত ভারতীয় পরিবেশ বিজ্ঞানী ড.‌ সুলেখা চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, মোটরগাড়ি থেকে যে দূষণ তৈরি হয় তা ব্রঙ্কাইটিস বা হাঁপানি রোগের সমস্যা তৈরি করতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। গাছ এই দূষণ সৃষ্টিকারী পদার্থগুলি পরিবেশ থেকে খুঁজে বের করে পরিশোধন করে। কলকাতায় গাড়িঘোড়ার সংখ্যা বেশি। ফলে একসঙ্গে এতগুলো গাছ পড়ে যাওয়াটা নিঃসন্দেহে একটা চিন্তার বিষয়। কারণ, করোনা বা অন্যান্য রোগের সঙ্গে লড়াই করতে আমাদের ফুসফুস সতেজ রাখাটা অত্যন্ত জরুরি। একসঙ্গে এত গাছ পড়ে যাওয়ার ফলে নিঃসন্দেহে আগামী দিনে বাতাসে অক্সিজেনের হেরফের হতে পারে।
আমফানের দাপটে জেলায় জেলায় পড়ে গেছে বহু গাছ। শুধু কলকাতায় পড়েছে ৫ হাজারেরও বেশি। বহু বছর ধরে তিলোত্তমাকে অক্সিজেন জুগিয়ে আসছে তারা। গত ২১ মে আমফানের সামনে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছে তারা। 
সুলেখা বলেন, একজন মানুষ বছরে যে পরিমাণ অক্সিজেন গ্রহণ করে তা পূর্ণবয়স্ক ৬ থেকে ৭টি গাছ সরবরাহ করে। এক কথায়, প্রত্যেক মানুষের জন্য দরকার গড়ে ৬ থেকে ৭টি গাছ। কলকাতায় কংক্রিটের কাঠামো অনেক। দিনের বেলায় কংক্রিট সূর্য থেকে যে উত্তাপ পায় রাতে সেই উত্তাপই আবার পরিবেশে ফিরিয়ে দেয়। গাছ সেটা করে না। তারা তাপমাত্রাকে ঠান্ডা করে তারপর বের করে। এই কারণেই গাছের পাতায় সকালে বিন্দু বিন্দু জল দেখা যায়। দূষণের জন্য পৃথিবীর অন্যান্য অংশের মতো কলকাতাও গরম হয়ে উঠছে। আগামী দিনে ঝড়ের সংখ্যাও বাড়বে। ফলে পরিবেশের এই বিরূপতা থেকে গোটা বিশ্বের সঙ্গে কলকাতাকে বাঁচাতে গাছের ভূমিকা অপরিসীম।
বক্ষরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ চন্দনকুমার শীট জানিয়েছেন, প্রশ্বাসের মাধ্যমে আমরা যে বাতাস গ্রহণ করি তার মধ্যে ২১ শতাংশ অক্সিজেন থাকে। এর ৫০ শতাংশ আসে সামুদ্রিক গাছপালা থেকে। বাকিটা জোগান দেয় সমতলের গাছ ও ঝোপঝাড়। লকডাউনের জন্য যানবাহন চলছে না। ফলে এতগুলো গাছ একসঙ্গে পড়ে যাওয়ায় যে ক্ষতিটা হল সেটা এখনই বোঝা যাবে না। দ্রুত যদি গাছের সংখ্যা না বাড়ানো হয় তবে আগামী দিনে কিন্তু অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যেতে পারে। যা ফুসফুসের জন্য ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনবে। ফলে শরীরের জন্যই আমাদের দূষণ কমিয়ে গাছের সংখ্যা বাড়াতে হবে। 
ধাক্কাটা লেগেছে জীবজগতেও। পরিবেশ কর্মী সুভাষ দত্ত বলেন, অক্সিজেনের যেমন সমস্যা হবে তেমনি এই গাছগুলিতে বসবাসকারী পাখিরাও আচমকাই নিরাশ্রয় হয়ে পড়েছে। এদের দিকটাও কিন্তু আমাদের ভাবতে হবে।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top