অনিন্দ্য জানা

আগডুম বাগডুম ঘোড়াডুম সাজে।
ঢাক ঢোল ঝাঁঝর বাজে। 
আগডুম:‌ তিনটি জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত এবং মোদি–আমলে ‘পদ্মশ্রী’ খেতাবে ভূষিত অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত। বাগডুম:‌ রোজ রাতে তাঁর চ্যানেলে সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী–সহ কংগ্রেসের মুন্ডুপাত করা এবং ঘোষিত দেশভক্ত তথা ‘নেশন ওয়ান্টস টু নো’ খ্যাত জাতির বিবেক অর্ণব গোস্বামী। ঘোড়াডুম:‌ বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। 
শুরু করেছিলেন ‘আগডুম’। ঢাক–ঢোল পিটিয়ে সেটাকে চৌদুনে নিয়ে গেলেন ‘বাগডুম’। সময়মতো পোঁ ধরলেন ‘ঘোড়াডুম’। এই ত্রয়ীর সমবেত সঙ্গতে বাজতে বাজতে ঢুলি পৌঁছেছে আরবসাগরের তীরবর্তী ‘কমলাফুলি’–তে। যার পোশাকি নাম মুম্বই। দেশের মানুষ আদর করে ডাকেন ‘ম্যাক্সিমাম সিটি’। অনেকে বলেন ‘মায়ানগরী’। 
ধুন্ধুমার টানাপোড়েন শুরু হয়েছে ‘কমলাফুলির টিয়ে’ নিয়ে। ‘টিয়া’–র নাম সুশান্ত সিং রাজপুত। 
গত ১৪ জুন ‌মৃত্যু হয়েছে বলিউডের সুপারহিট ছবির সুপারস্টার সুশান্তর। তার পর তঁার কাহিনি নিয়মমাফিক শোকপ্রকাশ এবং হা–হুতাশের পর থেমে যেতে পারত। যেমন যে কোনও মৃত্যুতেই হয়। পূর্ণচ্ছেদ। কিন্তু সুশান্ত–কাহিনি মৃত্যুর পর থামার কোনও লক্ষণ তো দেখাচ্ছেই না। বরং গতি বাড়িয়ে এগোচ্ছে আরও একটি ব্লকবাস্টার হওয়ার দিকে!‌ একের পর এক মোচড়। পরতে পরতে বাঁক। বেস্টসেলার থ্রিলারের মতো প্রতিটি পাতায় অহরহ জুড়ে যাচ্ছে নতুন নতুন অণুগল্প। 
এই উত্তর সম্পাদকীয়র শুরুতে উল্লিখিত ছড়াটি প্রচলিত এবং বহুশ্রুত। রচয়িতার নাম জানা না–গেলেও উৎসাহী ইতিহাসবিদদের গবেষণা বলছে, বাংলাদেশের উত্তরের জেলায় নীলফামারীর একটি উপজেলার নাম ছিল ‘ডোমার’। যার আগের নাম ছিল ‘ডোমনগর’। আনুমানিক ১৭০৫ সালে এটি ছিল পালবংশের রাজা ভীমপালের রাজধানী। সে রাজ্যের সেনাদের বলা হত ‘ডোমসৈন্য’। ছড়াটি নিছক ছেলেভোলানি বলে পরিচিত হলেও তার মধ্যে কোনও কোনও গবেষক ঢাক, ঢোল এবং ঝাঁঝর বাজিয়ে ডোমসৈন্যদের সাড়ম্বর এবং উচ্চকিত যুদ্ধযাত্রার ছবি খুঁজে পেয়েছেন। 
কাকতালীয়, কিন্তু অধুনা ‘ডোম’ শব্দটি ব্যবহৃত হয় শববাহক বা শবদাহকদের পরিচয় হিসেবে। মাত্র ৩৪ বছর বয়সেই ‘শব’ হয়ে যাওয়া সুশান্তকে নিয়ে যে নির্দয় টানাহ্যাঁচড়া চলছে এবং অন্ত্যেষ্টির পরেও তাঁর জীবন নিয়ে কাটাছেঁড়া যেভাবে অব্যাহত, তাতে মনে হওয়া অবধারিত যে, ‘আগডুম বাগডুম ঘোড়াডুম’ (‌ছড়ায় ‘ডুম’ শব্দটি ‘ডোমসৈন্য’–এর পরিচয়বাহী বলেই গবেষকদের একাংশের দাবি)‌ ওভারটাইম খাটছেন এবং দ্রুত অকালপ্রয়াত সুশান্ত পরিণত হচ্ছেন রাজনীতির বোড়েতে। মানসিক অবসাদ, স্বজনপোষণ এবং গ্ল্যামারদুনিয়ার কেচ্ছার গণ্ডী ছাড়িয়ে সুশান্ত–কাহিনি এখন রাজনীতির আঙিনায়। যেখানে প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে মহারাষ্ট্রের শাসক  শিবসেনা–এনসিপি–কংগ্রেসের জোট সরকারকে কোণঠাসা করতে নেমে পড়েছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ। সুকৌশলে সুশান্ত এবং তাঁর দুঃখজনক মৃত্যুকে ঠেলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ভোটের অন্যতম ‘ইস্যু’ হিসেবে বিহার নির্বাচনের দিকে। 
ধুন্ধুমার লড়াই বেধেছে শিবসৈনিক–ডোমসৈনিকে। মধ্যবর্তী নো ম্যান্‌স ল্যান্ডে পড়ে আছে এক প্রতিভাবান এবং অকালমৃত যুবকের শব। 
শৈশবে মাতৃহীন। শিশুসুলভ হাসি। পড়াশোনায় তুখড়। ছোট শহর থেকে উঠে এসে শিক্ষাগত যোগ্যতায় দিল্লির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগ এবং জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় মেধাশক্তির পরিচয়। কিন্তু নিশ্চিন্ত চাকরির দিকে না গিয়ে তুলনায় ঝুঁকিপূর্ণ কেরিয়ার তৈরি করতে আসা বিনোদনের জগতে। মুম্বই ইন্ডাস্ট্রির ‘স্ট্রাগলার’। শামক দাভরের ট্রুপে নাচ শেখা। বলিউডের অ্যাওয়ার্ড ফাংশনে তৃতীয় সারির নাচিয়ে হয়েও অন্তরে এই ভাবনার লালন  যে, তিনটে স্টেপ এগিয়ে একদিন সামনের তারকার জায়গাটা নিতে হবে। সিরিয়ালে অভিনয়। ক্রমে প্রথমসারির নায়কদের মধ্যে জায়গা করে নেওয়া। তারকাসুলভ রং–ঢং নেই। উল্টে টেলিস্কোপে রাতের তারা দেখার অভ্যাস। ডিজনিল্যান্ড এবং নাসায় সফর। মহেন্দ্র সিংহ ধোনির বায়োপিকের নামভূমিকায় অভিনয় করে প্রশংসিত এবং তারকার বৃত্তে প্রবেশ। সাড়ে ৪ লক্ষের মাসিক ভাড়ার ডুপ্লেতে বসবাস। কেরলের বন্যার্তদের জন্য কোটি টাকা দান। সুশান্ত ছিলেন পাশের বাড়ির সেই যুবক, যাঁকে অকুণ্ঠ ভালবাসা যায়। যাঁর সাফল্যে খুশি হওয়া যায়। 
অতঃপর আকস্মিক মৃত্যু। মুম্বই পুলিশের সেই মৃত্যুকে ‘আত্মহত্যা’ বলে রায় দিয়ে দেওয়া। প্রাথমিক বিস্ময়ের ধাক্কা কাটতে না কাটতেই হুড়মুড়িয়ে সামনে এসে পড়া বলিউডের স্বজনপোষণের তত্ত্ব। মনোজ বাজপেয়ীর মতো হিন্দি ছবির সাম্রাজ্যে ‘বহিরাগত’–দের পরোক্ষে সুশান্তের মৃত্যুর পিছনে নেপোটিজমের বিরুদ্ধে অনিঃশেষ লড়াইজনিত অবসাদ এবং চাপের কথা বলা। কঙ্গনার বিস্ফোরণ। নাগাড়ে কার্পেট বম্বিংয়ের সামনে জড়সড় মুম্বই পুলিশের একের পর এক বলিউড হেভিওয়েটকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ। দেশ জুড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘জাস্টিস ফর সুশান্ত’ হ্যাশট্যাগ দিয়ে ভার্চুয়াল আন্দোলন। আসরে প্রাক্তন বান্ধবী অঙ্কিতা লোখান্ডে। সমস্ত ‘ক্লায়েন্ট কনফিডেনশিয়ালিটি’ চুলোয় দিয়ে সুশান্তর মনোবিদের প্রকাশ্যে বলা যে, তিনি ‘ডিলিউশনাল’ ছিলেন। প্রবেশ রিয়া চক্রবর্তীর। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত সুশান্ত যাঁর সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের যুগল ছবি বলছে। ‘বয়ফ্রেন্ড’–এর মৃত্যুর সিবিআই তদন্তের আর্জি জানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে টুইট রিয়ার। 
এইপর্যন্ত কাহিনি গড়গড়িয়ে চলছিল। এরপরেই মোচড়। 
মোচড় ১:‌ মৃত অভিনেতার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্তত ১৫ কোটি টাকা গায়েব বলে সুশান্তের বাবার বিহার পুলিশে এফআইআর। দ্রুত অভিযোগের কাঁটা ঘুরে যাওয়া রিয়ার দিকে (‌পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে কোনও দূরবর্তী সম্পর্কে আবদ্ধ না হলেও যিনি পিতৃপরিচয় সূত্রে বঙ্গতনয়া। তাঁর সূত্রে তাবৎ বাঙালি মেয়ে ‘কালা যাদু’ জানে বলে জিগির ওঠা)‌। তার সঙ্গেই আত্মহত্যা এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়া থেকে সুশান্তর মৃত্যুকে সম্ভাব্য খুনের সন্দেহের দিকে ঠেলে দেওয়া। বিহার পুলিশ সম্পর্কে রিয়ার অনাস্থা এবং মুম্বই পুলিশের তদন্তে আস্থাজ্ঞাপন। সংক্ষিপ্ত ভিডিওবার্তায় বলা, ‘সত্যমেব জয়তে’। 
মোচড় ২:‌ সুশান্ত–তদন্তে বিহার পুলিশের মুম্বই গমন। মুম্বই পুলিশের প্রকাশ্য অসহযোগিতা। বিহার পুলিশের সিনিয়র অফিসারকে কোয়ারেন্টিনে ঠেলে দেওয়া। বিহার পুলিশের ডিজি এবং রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলের খোলাখুলি উষ্মা। বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর (‌ঘোড়াডুম)‌ সুশান্তের মৃত্যুতে সটান সিবিআই তদন্তের সুপারিশ। কেন্দ্রীয় সরকারের সেই সুপারিশ দ্রুত মেনে নেওয়া। সুপ্রিম কোর্টে রিয়ার তরফে আবেদন বিহার থেকে মামলা মুম্বইয়ে আনার জন্য। শীর্ষ আদালতে ভৎর্সিত মুম্বই পুলিশ। সিবিআই তদন্তের নির্দেশ। সিবিআইয়ের এফআইআরে একাধিক ধারায় মূল অভিযুক্ত রিয়া। সহ–অভিযুক্ত তাঁর পরিবার। রিয়ার বাবা ইন্দ্রজিৎ, ভাই শৌভিক এবং সুশান্ত–রিয়ার ম্যানেজার শ্রুতি মোদীর উপস্থিতিতে রিয়াকে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দীর্ঘ জেরা। যে জেরায় ‘অসঙ্গতি’ মিলেছে এবং তাঁকে আবার ডাকা হবে বলেই বিভিন্ন চ্যানেলে দাবি। 
মোচড় ৩:‌ সুশান্তের মৃত্যুর দিনকয়েক আগে তাঁর প্রাক্তন ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের মৃত্যু। ১৪ তলার ফ্ল্যাট থেকে ঝাঁপিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন দিশা— প্রাথমিক তদন্তের পর রায় মুম্বই পুলিশের। মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা অধুনা বিজেপি নেতা নারায়ণ রানের খোলাখুলি দাবি, দিশাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছিল। ময়নাতদন্তে তাঁর যৌনাঙ্গে আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আরও বলছে, অ্যাপার্টমেন্টের নীচে দিশার দেহ উদ্ধার করার সময় তাঁর দেহে কোনও বস্ত্র ছিল না। 
মোচড় ৪:‌ আচমকা ঘটনাপ্রবাহে মডেল–অভিনেতা ডিনো মোরিয়ার নাম। দাবি, সুশান্তের মৃত্যুর আগের রাতে ডিনোর বাড়িতে পার্টি হয়। সেখান থেকে কিছু লোকজন সুশান্তের বাড়িতে যান। ডিনোর অস্বীকার। 
মোচড় ৫:‌ মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের পুত্র তথা রাজ্যের তরুণ মন্ত্রী আদিত্য ঠাকরের নাম ঘটনাপ্রবাহে জড়িয়ে যাওয়া (‌নাকি, খুব সন্তর্পণে জড়িয়ে দেওয়া)‌। এই প্রচার শুরু হওয়া (‌নাকি, শুরু করা)‌ যে, মৃত্যুর দিন দিশার বাড়িতে পার্টি চলছিল (দিশার ‌ফ্ল্যাটে নাচগানের একটি ভিডিও বাজারে এসেছে। দাবি, সেটি দিশা রেকর্ড করেছিলেন মৃত্যুর দিনই)‌। ইন্ডাস্ট্রির কিছু লোকজনের সঙ্গেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন আদিত্য। প্রথমে অবজ্ঞা করলেও পরে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে আদিত্যের প্রকাশ্য বিবৃতিতে ঘটনা অস্বীকার। বলা, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির লোকজনের সঙ্গে বন্ধুত্ব থাকা অপরাধ নয়। নোংরা রাজনীতি করা হচ্ছে। কারণ, মহারাষ্ট্রের শিবসেনা সরকারের পারদর্শিতা বিজেপি–কে চিন্তায় ফেলেছে। শিবসেনা সাংসদ সঞ্জয় রাউতের অভিযোগ, সুশান্তের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিহার এবং কেন্দ্রীয় সরকার মহারাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তঁার আরও দাবি, ‘সুশান্তের সঙ্গে ওর বাবার সম্পর্ক ভাল ছিল না।’ 
মোচড় ৬:‌ দিশার বাবার মুম্বই পুলিশকে লেখা চিঠি। যেখানে তিনি বলছেন, কয়েকটি চ্যানেলের সাংবাদিক এসে তঁাকে মুম্বই পুলিশের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে বলছেন। কিন্তু মুম্বই পুলিশের তদন্তে তিনি সন্তুষ্ট। দিশাকে কেউ ধর্ষণ বা খুন করেনি। শুনেই অপরপক্ষের দাবি, দিশার বাবাকে দিয়ে ওই চিঠি লিখিয়ে নেওয়া হয়েছে। 
মোচড় ৬: ‌সুপ্রিম কোর্টে সুশান্তর বাবার এফিডেভিট করে আবেদন, ঘটনার তদন্ত এখন সিবিআইয়ের হাতে। অতএব মামলা মুম্বইয়ে সরিয়ে আনা নিয়ে রিয়ার আবেদনের শুনানি নিষ্প্রয়োজন। রিয়ার আইনজীবীর ‘সুশান্তের ডায়েরি’–র পৃষ্ঠা প্রকাশ। যেখানে ‘গ্র্যাটিটিউড লিস্ট’ শিরোনামের নীচে লেখা, জীবনে রিয়া, তঁার পরিবার এবং প্রিয় পোষ্য ল্যাব্রাডর ‘ফাজ’–কে পেয়ে সুশান্ত কতটা কৃতজ্ঞ। রিয়াকে ‘বেবু’ বলে উল্লেখ। রিয়ার আইনজীবীর দাবি, হাতের লেখা সুশান্তরই। কালক্ষেপ না করে নেটদুনিয়ায় পাল্টা প্রশ্ন, ‘এটা কি আদৌ কোনও ডায়েরি?‌ গোলাপি রংয়ের কভার। আগে–পিছে কোনও এন্ট্রি নেই। পাতার উপর কোনও তারিখ নেই। এ তো মনে হচ্ছে নিজে ইতিবাচক থাকার জন্য কোনও মনোবিদের বাতলানো প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী স্বেচ্ছা–অনুশীলন।’
ক্রমাগত চড়াই–উতরাইয়ে চলতে থাকা এ কাহিনির মার তো নেই–ই, এ ছবি কোথায় গিয়ে থামবে, তা–ও বলা কঠিন। বস্তুত, এ জিনিস ব্লকবাস্টার সেলুলয়েডেও বিরল!‌ জীবিত সুশান্তও সম্ভবত এত কম সময়ে এমন নাটকীয় উত্থানপতন এবং ঘাতপ্রতিঘাত দেখেননি। ‌
কাহিনি আরও গড়াবে। আসবে আরও বাঁক এবং মোচড়। কিন্তু টিভি–তে ‘বাগডুম’ যখন উদ্ধত আঙুল তুলে বলেন, ‘উদ্ধব ঠাকরে, যদি শিবসেনার কোনও প্রথমসারির নেতার সঙ্গে এই ঘটনার যোগাযোগ থাকে, তোমায় কিন্তু গদি ছাড়তে হবে! মুম্বই পুলিশের কমিশনারের হিম্মত থাকলে আমার ১০টা প্রশ্নের জবাব দিক!‌’ তখন এই‌ কলামলেখকের মনে পড়ে, ‘বাগডুম’–কে ডেকে পাঠিয়ে মুম্বই পুলিশের ঘন্টার পর ঘন্টা জেরা করার অনতি–অতীত। যখন অন্য চ্যানেলে ‘বাগডুম’–এর সমসাময়িক এবং কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ আমলে ‘পদ্মশ্রী’প্রাপ্ত সাংবাদিক–সম্পাদক বলেন, ‘সুশান্ত অতবড় তারকাও ছিল না যে, তাকে নিয়ে এতটা চাপ তৈরি করতে হবে’, তখন মনে পড়ে পেশাগত পর্যায়ে দু’জনের আকচা–আকচির ইতিহাস। 
মনে হয়, কেউই কি সুশান্তের জন্য সুবিচার চাইতে নেমেছে?‌ নাকি যে যার নিজের তালে আছে?‌ চৌত্রিশেই থেমে–যাওয়া হতভাগ্য এক যুবকের জীবনকে ঘেঁটে, ঘুলিয়ে ব্লকবাস্টার ছবি তৈরি করে নেমে পড়েছে বক্স অফিসে যে যার লাভের কড়ি গুনতে!‌ 
মায়ানগরী ‘কমলাফুলির টিয়া’–র জন্য একটু মায়াই হচ্ছে। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top