কদিন আগেই নাগপুরে সঙ্ঘের সদরে গিয়ে কৈলাস সত্যার্থী যা বলে এসেছিলেন, তা মাঠেই মারা গেছে। তঁাকে সঙ্ঘ কোনওদিনই বিশেষ সুনজরে দেখেনি। ২০১৪ সালে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পরেও সঙ্ঘ ও কেন্দ্র তাঁকে নিয়ে বিশেষ উচ্ছ্বসিত হয়নি। কেন না, সত্যার্থী মুক্ত-বামপন্থী। অমর্ত্য সেন যেমন, সত্যার্থীও তেমনই সন্দেহভাজন সঙ্ঘের চোখে। সঙ্ঘের নানা শক্তিশালী গণসংগঠনকে শিশুকন্যা ও নারীরক্ষায় ডাক দিয়েছিলেন তিনি। অচিরেই টমসন–‌রয়টার্স ফাউন্ডেশন জানাল, শিশু ও নারী–‌পীড়নে ভারতই বিশ্বে প্রথম। নারী–‌পীড়ন নিয়ে হইচই যত হয়েছে, ততটা আইনি অগ্রগতি হয়নি। মেয়েদের প্রতি বৈষম্য বরং বেড়েই চলেছে। এমনকী সঙ্ঘীয় নেতৃত্বও শবরীমালা নিয়ে উসকানি দিতে শুরু করেছেন, আর শাসকদলের সভাপতিও গলা ছেড়ে সর্বোচ্চ আদালতকে হুমকি দিচ্ছেন। কেরলে যা ঘটছে তা নারী–বিদ্বেষের সঙ্গে প্রগতি–‌বিদ্বেষ, এটা বুঝতে অসুবিধে হয় না। এই বাতাবরণে সঙ্ঘের অনুষ্ঠানে প্রণব মুখার্জি বা কৈলাস সত্যার্থীদের ডেকে কার্যত অবমাননাই করা হয়। কারণ তাঁরা যা বলবেন, তাতে সঙ্ঘের হৃদয় পরিবর্তনের কোনও সম্ভাবনাই নেই। কৈলাস বলে এসেছিলেন, সহমর্মিতা ছাড়া কোনও দায়বদ্ধ সমাজ গড়ে ওঠে না। সহমর্মিতাহীন রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজ হয়ে ওঠে প্রাণবিহীন দেহ। ভারতের যথার্থ ছবিটাই তুলে ধরেছিলেন তিনি। অথচ ক্ষমতার দম্ভে সঙ্ঘীরা ভুলে গেছেন যে উন্মাদনা যত তীব্র, ততটাই ক্ষণস্থায়ী। প্রবল প্রত্যাশায় ফোলানো বেলুন চুপসে যেতেও দেরি হয় না। তেমনটাই ঘটতে শুরু করেছে। উপনির্বাচনে বিজেপি পর্যুদস্ত বললে কম বলা হয়। ২০১৪ সালের ভোটে একাই গরিষ্ঠতা পেয়েছিল বিজেপি, আর তার পরেই শুরু আত্মম্ভরিতা। শরিকদের, মানুষকে অবহেলা। মোদি ক্ষমতায় আসার পর ৩০টি লোকসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হয়েছে, যার মধ্যে ১৬টি ছিল বিজেপি–‌র। বিজেপি মাত্র ৬টি ধরে রাখতে পেরেছে, হারিয়েছে ১০। লোকসভায় বিজেপি ২৮২ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ২৭২–‌এ।‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top