মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা, কয়েক বছরের মধ্যে ভারত ‘‌উন্নত’‌ দেশ হয়ে যাবে, ‘‌উন্নয়নশীল’‌ তকমাটা থাকবে না। ভাল কথা। উন্নত দেশগুলোয় একটা বিষয়ে সংশয় নেই। রাজনৈতিক, ‌প্রশাসনিক ও সামাজিক স্তরে মতানৈক্য নেই। ‘‌সিনিয়র সিটিজেন’‌ যে সুবিধা ও সম্মানের অধিকারী, সবাই মানেন। এমন সব প্রকল্প আছে, আমরা যা ভাবতেই পারি না। ভাবছি না। বলছি, ন্যূনতম ভাবনা কি রয়েছে প্রবীণদের জন্য?‌ রেলে একটু ছাড়। বেশি বয়সে রেল ভ্রমণ, যে কোনও ভ্রমণ এমনিতেই কমে আসে, প্রবীণদের লাভ হয় না। আয়করে সামান্য ছাড়। প্রভিডেন্ট ফান্ডও করমুক্ত নয়। সঞ্চয়ের ওপর সুদ কমে চলেছে। কেন্দ্রীয় বাজেট আসে প্রতিবার, আশা করা হয়, কিছু সুরাহা ঘোষিত হবে, অসহায় প্রবীণদের হতাশা যায় না। কয়েকটি দাবি নির্দিষ্টভাবে তোলা হয়েছে নানা মহল থেকে। একটি নামী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা তথ্য দিয়ে জানিয়েছে, কী অবস্থা, কী করা উচিত অবিলম্বে। একটা দাবি হল, নিঃসন্তান প্রবীণদের জন্য পেনশনের ব্যবস্থা করা হোক। ভাল প্রস্তাব। সরকার মানবে বলে মনে হয় না। আর, সমস্যা কি শুধু নিঃসন্তান প্রবীণদের?‌ যাঁরা সন্তানকে উপযুক্ত করে তোলার জন্য নিজেদের উপার্জনের বড় অংশ ব্যয় করেন শিক্ষায়, উচ্চশিক্ষায়, তাঁরা কি সবসময়ে নিরাপদ?‌ সন্তান প্রতিপালনে, তাঁদের ন্যূনতম প্রতিষ্ঠার জন্য, উচ্চশিক্ষিত করে উপার্জনের উপযোগী করে তোলার জন্য যাঁরা আয়ের বড় অংশ খরচ করেন, তাঁরা ভাল থাকেন, সব সময়?‌ ‘‌সব সময়’‌ কথাটা গুরুত্বপূর্ণ। দায়িত্বশীল সন্তান আছে অনেক, কিন্তু, উল্টো?‌ যাঁরা ‘‌উপযুক্ত’‌ হয়ে আর মা–‌বাবাকে দেখেন না? খুব অল্প পরিমাণ সুদে একটু ছাড়, যা আজকের দিনে যথেষ্ট নয়। আরও একটু ছাড় দেওয়া উচিত নয়?‌ উল্টে, স্বল্পসঞ্চয়ের সুদ কমিয়ে দিল সরকার। প্রবীণদের আরও বিপদে ফেলা হল। ‘‌প্রবীণ ভাবনা’‌ থাকবে না?‌

জনপ্রিয়

Back To Top