সামনে বিশাল আন্দোলন। মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে বাংলার মানুষের, বাঙালির প্রবল লড়াই। প্রেক্ষাপট নিয়ে, মোদি–‌শাহ জুটির কুৎসিত চক্রান্তের স্বরূপ নিয়ে আন্দোলনে থাকতে হবে আমাদের, যারা মানুষ ও বাঙালি হিসেবে সচেতন ও গর্বিত। তবু, তারই মধ্যে, জরুরি একটা বিষয়ে আলোকপাত করা দরকার।
দিঘায় শিল্প সম্মেলনে পর্যটন, তথ্য ও প্রযুক্তি, দেউচা–‌পাচামি, তাজপুর সমুদ্রবন্দর নিয়ে স্পষ্ট ঘোষণা। সমাপ্তি ভাষণে মমতা জোর দিলেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে। যাতে বাংলার সাফল্য গোটা দেশকে পথ দেখাচ্ছে। এক পরিচিত শিল্পপতি দিন কয়েক আগে বলছিলেন, একসঙ্গে দেখা হলে, কোনও কোনও শিল্পোদ্যোগী বন্ধু তাঁকে বলেন, বাংলায় তো বড় শিল্প হচ্ছে না। পরিচিত শিল্পপতি জবাব দেন, মন্দার বাজারে বড় শিল্প কোন রাজ্যে হচ্ছে?‌ ন্যানো প্রকল্প গুজরাটের সানন্দে হয়েছিল ঢাকঢোল পিটিয়ে। প্রায় বিনামূল্যে জমি ও আনুষঙ্গিক সুবিধা দিয়েছিল রাজ্য সরকার (‌তখন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি)‌। কার্যত পরিত্যক্ত সেই প্রকল্প। পরিচিত শিল্পোদ্যোগীর প্রশ্ন সতীর্থদের কাছে, যখন দেশে বৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের (‌এখন ৪.‌৫)‌ নীচে, বাংলায় বৃদ্ধির হার ১২ শতাংশের বেশি কেন? তথ্য দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারই, বলুন, বাংলার বৃদ্ধির হার এতটা বেশি কেন?‌ জবাব পাননি। সতীর্থরা চুপ করে থেকে বুঝিয়ে দেন, সেটা একটা বড় কথা বটে!‌
কয়েকটা তথ্য জানা দরকার। বাংলায় দারিদ্রের হার কমেছে ৪০ শতাংশ। এই সূচকে দেশের শ্রেষ্ঠ রাজ্য বাংলা এবং তথ্যটা কেন্দ্রেরই দেওয়া। কর্মসংস্থান?‌ যেখানে কাজ হারাচ্ছেন দেশের নানা রাজ্যের মানুষ, বাংলায় কর্মসংস্থান বেড়েছে। বেকারত্ব সবচেয়ে কম বাংলায়। হ্যাঁ, এই পরিসংখ্যানও কেন্দ্রের।
কী করে ব্যতিক্রম হয়ে উঠেছে আমাদের রাজ্য?‌ মানুষের ভালর জন্য মমতার সরকারের বিরামহীন চেষ্টা। প্রকল্প এবং তার রূপায়ণ। ২ টাকা কেজি চাল। কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, খাদ্যসাথী, সবুজ সাথী, জল ধরো জল ভরো। এমন প্রায় ৫০টি প্রকল্প। মানুষ দুর্গতিতে পড়ছেন না। কৃষকের কথা ভাবুন। তাদের জমির খাজনা দিতে হচ্ছে না। শস্য বিমা। কিসান মান্ডি। দুর্যোগেও চাষির পাশে সরকার।
১০০ দিনের কাজে, দেশের মধ্যে এক নম্বরে। কেন্দ্রীয় তথ্যই, বাংলা। সেচে বিপুল উন্নতি। কৃষকের আত্মহত্যার ঘটনা নেই, যেখানে দেশে প্রতি বছরই হাজার হাজার চাষি আত্মঘাতী। শিক্ষা? কলেজে ভর্তি নিয়ে অভিযোগ আর উঠছে না। প্রচুর কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয়েছে। রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে দেশের এক ও দুই নম্বরে 
কলকাতা ও যাদবপুর।
সাংবাদিক–‌লেখক ধ্রুবজ্যোতি নন্দী কেরলে গিয়ে জানার চেষ্টা করেন, বড় শিল্প না–‌হওয়া সত্ত্বেও, পর্যটন ছাড়া আর কী আছে— যেজন্য প্রগতি?‌ জমি যেন সোনা। বৈচিত্রমুখী চাষ, প্রতি ইঞ্চি জমির সদ্ব্যবহার। ফিরে এসে বলছেন, বাংলাতেও তো তা–‌ই। আরও বেশি হচ্ছে। বাঙালি কর্মবিমুখ, কথাটা ডাহা মিথ্যা। বাংলার কৃষক প্রমাণ করেছেন। সেচের ব্যবস্থা। সহায়ক সরকার। এরাজ্যেও ভুট্টা, ক্যাপসিকাম–‌সহ নানা ফসলের চাষ, 
জমি ফাঁকা পড়ে থাকছে না। যাতে বলে ‘‌ক্রপ ফেলিওর’‌, নেই। 
তার সঙ্গে জুড়ুন, ধ্রুবজ্যোতি বলছেন, আমরা একটু পরে বলি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান। তিন ক্ষেত্রেই সাফল্য। মুখ্যমন্ত্রী অতন্দ্র, সতীর্থরা তৎপর, তদারকি নিয়মিত। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে সাফল্য দুর্দান্ত। দেখছেন। একটা উদাহরণ। শিশুমৃত্যুর হার সবচেয়ে কম বাংলায়। কী আর করা যাবে, এই পরিসংখ্যানও কেন্দ্রের!‌
সাংবাদিক–‌লেখক বলছেন, মনে রাখতে হবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের কথাও। কথাটা জোর দিয়ে বললেন মমতা ব্যানার্জি, শিল্প সম্মেলনের সমাপ্তি ভাষণে। তিন কোটি মানুষের কর্মসংস্থান। আবার বলতে হচ্ছে, এক্ষেত্রেও এক নম্বরে বাংলা। বানতলা। অনেক মাঝারি শিল্পোদ্যোগীকে জড়ো করে চর্মশিল্পে হাব আজ স্বপ্নই দেখাচ্ছে না, বাস্তবায়িত হচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে ৫ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান। সঠিক অগ্রাধিকার। শিল্প সম্মেলনের বার্তা আরও প্রসারিত হবে।
ধর্মনিরপেক্ষ, মানবিক, জনমুখী সরকার। মমতার নেতৃত্বে অগ্রগতি অনস্বীকার্য। ‘‌‌পপুলিস্ট’‌ বলে গাল পাড়বেন? সম্ভব হবে না। মিথ্যাচার হবে। জনপ্রিয় তো বটেই। জনহিতবাদী। মানুষের কল্যাণই পাখির চোখ। সঙ্গে কয়েকটা প্রাসঙ্গিক কথা। পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি। রাজ্যের কিছু করার নেই। মমতা কিন্তু বসে থাকলেন না। বৈঠক করলেন, টাস্ক ফোর্স ও পুলিশকে সক্রিয় করলেন, যতটা কাজ হয়। নিজে গেলেন বাজারে। প্রতি কেজিতে ৫০ টাকারও বেশি ভর্তুকি দিয়ে প্রায় দেড় হাজার জায়গা থেকে ৫৯ টাকা দরে পেঁয়াজ। ‘‌রাজ্যের কিছু করার নেই’‌ বলে বসে থাকেননি। বুলবুল। দুর্যোগের পর দুর্গত এলাকায় গেলেন, জানলেন বিস্তারিত। ব্যবস্থা নিলেন। কেন্দ্র এক পয়সাও সাহায্য দেয়নি, তবু দুর্গতদের পাশে। যেদিন আছড়ে পড়ার কথা বুলবুল–‌এর, গভীর রাত পর্যন্ত নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী। অতন্দ্র মমতা। তার আগে, জুনিয়র ডাক্তারদের ধর্মঘট। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছিল। বিরোধীরা, স্বঘোষিত মানবদরদিরা উসকে দিলেন। মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকে ডাকলেন আন্দোলনকারীদের। একে একে সকলের অভিযোগ শুনলেন। অনেক ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সুরক্ষার নির্দেশ দিলেন। বললেন, ‘‌লক্ষ্মী ছেলেরা, এবার কাজ শুরু করো’‌। শুরু হল। গোটা বৈঠক টেলিভিশনে দেখানো হল। বলুন তো কখনও কোনও রাজ্যে এমন হয়েছে?‌
জনহিতবাদী, জনমুখী, সজাগ মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর সরকার। বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের যোদ্ধা। ইতিবাচক বাঙালিত্বের সগর্ব অঙ্গীকার। সজাগ ও নির্ভীক নেতৃত্ব। মমতা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এই জনমুখী ও দ্রুতগামী নেত্রীর হাতে বাংলা সুরক্ষিত। কোনও বিষে কাজ হবে না।‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top