নাটক নয়, কুনাটক। দল পাল্টানো, সরকার উল্টে দেওয়া, এসব নিতান্ত বিরল নয়। কর্ণাটকে যা হল, তেমনটা কেউ দেখেছেন আগে?‌ সবচেয়ে বেশি আসনে জিতেছিল বিজেপি, একটু কম ছিল কংগ্রেস। জেডিএস তৃতীয়। সর্বভারতীয় পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সোনিয়া–‌রাহুল সিন্ধান্ত নেন, জেডিএস–‌এর চেয়ে বেশি আসন পেলেও, সরকার গড়ার চেষ্টা করবেন না, সমর্থন করবে দেবগৌড়ার পুত্র এইচ ডি কুমারস্বামীকে। জোট সরকার। বিজেপি নেতা ইয়েদুরাপ্পা, যিনি আগে একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রী হলেও পুরো মেয়াদ থাকতে পারেননি, তিনি প্রথম দিন থেকেই বলতে থাকেন, এ সরকার টিকবে না। কী বলতে চাইলেন, কংগ্রেস–‌জেডিএস জোট ভেঙে যাবে?‌ জোট ভাঙেনি। শুরু থেকেই কংগ্রেস ও জেডিএস বিধায়কদের ভাঙিয়ে সরকার ফেলার খেলায় নামেন ইয়েদুরাপ্পা। সাত দিনের মাথায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও ছড়ায়। জোটের দুই দলের বিধায়কদের বিপুল টাকার লোভ দেখানো হচ্ছে। এটায় শোনা গেল স্বয়ং ইয়েদির গলা। সেই খেলায় সাফল্য পেয়েও পশ্চাদপদ বিজেপি। একবার কংগ্রেস ও জেডিএস বিধায়কদের রিসর্টে রাখা হয় কয়েকদিন, দলবদল ঠেকাতে। এবার, অবশেষে, সফল। ১৬ বিধায়ক ভাঙিয়ে। মুখ্যমন্ত্রী ইয়েদুরাপ্পা। বয়স ৭৬। বিজেপি–‌র ঘোষিত সিদ্ধান্ত, ৭৫ হয়ে গেলে কাউকে পদে বসানো হবে না। কত কোটি খরচ?‌ শোনা গেল, মাথা পিছু ৫০ কোটি!‌ এক বিজেপি নেতা বললেন, ২–‌৫ কোটি টাকাই তো যথেষ্ট, ৫০ কোটির গল্প সত্যি হতে পারে না। মানে, ৫ কোটি দেওয়াই যায়!‌ অধিকাংশ দলত্যাগী বিধায়কই কংগ্রেসের। সরকার পড়ার জন্য প্রধানত দায়ী কংগ্রেসের ভূমিকাই। এবং, যা বলতেই হয়, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার ক্ষোভ, চক্রান্ত। তিনি অনেকবার বলেছেন, সরকার থাকবে না। সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের নাকি মদত দিয়েছেন এই কংগ্রেস নেতাই।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top