না। ওঁরা সব প্রবীণকে মরতে বলছেন না। শুধু মধ্যবিত্ত প্রবীণদের বলতে চাইছেন। কর্মজীবন থেকে অবসর নিয়ে, যথাসাধ্য ব্যাঙ্কে রেখে সংসার চালান যাঁরা, তাঁরা দেখছেন, অস্থি–‌মজ্জায় প্রাণ ধারণের যুদ্ধে বুঝছেন, কী হচ্ছে। সুদ কমার হার অব্যাহত। আগেও কমেছে, তবে এতটা নয়, এভাবে নয়। সন্তানকে ‘‌মানুষ’‌ করার চেষ্টায় তাঁদের আয়ের অংশ চলে গেছে। হয়তো স্বামী–‌স্ত্রী, সন্তানরা দিতে চাইলেও অনেকে নিতে চান না, সৎভাবে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার পর বাকি জীবনটা আত্মসম্মানের সঙ্গে বাঁচতে চেয়েছেন। জিনিসপত্রের দাম বেড়ে চলে, অন্য খরচও ক্রমবর্ধমান, এদিকে সুদের হার ক্রমহ্রাসমান। ওঁরা কী করবেন?‌ গত এক বছরে পাঁচবার, হ্যাঁ, পাঁচবার সুদের হার কমেছে। সম্প্রতি কমল ঠিক পনেরো দিনের ব্যবধানে। কেন্দ্রের যুক্তি কী?‌ সুদের হার কম মানে ব্যবসায় জোয়ার। কম সুদে ঋণ, সুতরাং ব্যবসায়ীরা ঝাঁপিয়ে পড়বেন, লগ্নি করবেন, দেশের মহাসমৃদ্ধি ঘটবে। প্রশ্ন হল, গত এক বছরে পাঁচবার সুদের হার কমেছে, তাতে কি লগ্নি বেড়েছে?‌ নাকি, বিশাল অঙ্কের ঋণ নিয়ে (‌কেউ কেউ শোধ না দিয়ে)‌ লাভের অঙ্ক বাড়িয়েছেন?‌ কম সুদে ঋণ মানেই বিপুল লগ্নি, এই ভয়ঙ্কর ভ্রান্ত ধারণাটা কী করে যে বদ্ধমূল!‌ মানুষের আয় নেই, তাই বাজারে চাহিদা নেই। চাহিদা নেই, তাই উৎপাদন নেই। উৎপাদন নেই, তাই কাজ নেই। এক বছরে পাঁচবার সুদ কমিয়ে আর্থিক বিপর্যয় ঠেকাতে পারল সরকার?‌ কেউ কেউ আমেরিকা, চীন, উন্নত ইউরোপীয় দেশগুলোর কথা বলছেন, যেখানে সুদের হার কম। কিন্তু, সেখানে যা আছে, তা ভারতে নেই। আছে সোশ্যাল সিকিউরিটি। আছে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ। আছে প্রবীণ নাগরিকদের নিত্যপণ্য কেনার ক্ষেত্রেও ছাড়, সুবিধা। ওঁরা, কেন্দ্রীয় সরকারের কর্তারা প্রবীণদের কোথায় ঠেলে দিচ্ছেন?‌ নিশ্চিত মৃত্যু অথবা বেঁচে থেকেও মৃত্যুর দিকে। সরাসরি বলে দিলেই তো হয়, প্রবীণ?‌ মরুন!‌ 

জনপ্রিয়

Back To Top