২০১২ সালে দিল্লিতে নির্ভয়া কাণ্ডের পর তোলপাড় হয়েছিল দেশ। রাজধানীতে অভূতপূর্ব প্রতিবাদ। ইউপিএ সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়, আইন আরও কঠোর করতে হবে। করা হল। যাতে তেমন ঘটনা ভবিষ্যতে আটকানো যায়, তার ব্যবস্থা করতে হবে। আইন কঠোর হল। এখন তো প্রায় নিয়মিতভাবে দেখা যাচ্ছে, নিষ্ঠুর ধর্ষণে (‌এবং খুনে)‌ যুক্ত নাবালকরাও। নির্ভয়া কাণ্ডেও বাসে চূড়ান্ত হেনস্থা, ধর্ষণ ও খুনের ক্ষেত্রে যুক্ত ছিল একাধিক নাবালক। নতুন আইন হল, ধর্ষণের ক্ষেত্রে নাবালকদের কোনওরকম ছাড়ের ব্যবস্থা থাকবে না। সাবালক হিসেবে বিচার হবে তাদের। দুর্ভাগ্যজনক, কঠোর আইন হল, অনেক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও হল। কিন্তু জঘন্য ঘটনা থামল না। দেখা গেল, পরের কয়েক বছরে এ ধরনের অপরাধ বেড়েছে। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশে নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন, রাজস্থানে শিশুকে ধর্ষণ করে খুন। হায়দরাবাদে টোল প্লাজায় তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ, পুড়িয়ে খুন। কখনও কখনও একটা ঘটনা তোলপাড় ফেলে দেয়। হায়দরাবাদের ধর্ষণ ও পুড়িয়ে খুনে জনমানসে তীব্র প্রতিক্রিয়া। প্রতিবাদ মিছিল, বিক্ষোভ, সর্বত্র। শিশুকন্যাদের হাতে পোস্টার, আমাদেরও কি এরকম হবে?‌ একক ও সমবেত প্রতিবাদে উত্তাল রাজধানী, হায়দরাবাদ, গোটা দেশ। ক্ষোভ ও হতাশা থেকে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, প্রতিবাদ করে কোনও লাভ হচ্ছে কি?‌ এত প্রতিবাদ, এত ক্ষোভ, তবু একই ধরনের অপরাধ তো ঘটেই চলেছে। ভাবার বিষয়, কেন হচ্ছে?‌ শুধু আইন থাকলে হবে না, তার প্রয়োগ দরকার। প্রশ্ন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপরাধী হয় রেহাই নয়তো অল্প শাস্তি পাচ্ছে। আদালতে মামলা প্রতিষ্ঠিত করতে সরকারি আইনজীবীদের, আইন মন্ত্রককে সজাগ 
থাকতে হবে সারাক্ষণ। চাই সামাজিক আন্দোলন। ফল হচ্ছে না বলে চুপ করে যাবেন, তা নয়। এবং প্রতিবাদ থাকুক। ক্রমাগত প্রতিবাদ, ধারাবাহিক প্রতিবাদও গণতন্ত্রের অপরিহার্য অঙ্গ। হতাশা স্বাভাবিক, কিন্তু হাল ছেড়ে দিলে চলবে না।

জনপ্রিয়

Back To Top