বিশ্বভারতীতে প্রেম নিয়ে আবার রক্তপাত। প্রেমে রাজি না হওয়ায়, তরুণীকে ছুরিকাহত হতে হল। এর আগেও ঘটেছে। সে আরও ভয়ঙ্কর। ছাত্রীদের হস্টেলে ঢুকে তরুণীকে গুলি করে মেরে আত্মঘাতী হয়েছিল প্রেমিক। শুধু বিশ্বভারতী নয়, প্রেম নিয়ে এই ধরনের ঘটনা কোথায় না ঘটে?‌ কোথাও ট্রেনের নিচে ঝঁাপ, কোথাও মুখে অ্যাসিড ছুঁড়ে মারা। কখনও আবার ব্ল্যাকমেল করবার হুমকি, সেখান থেকে থানা–‌পুলিশ। প্রেমের এই রক্তাক্ত চেহারা দেখলে যেমন দুঃখ হয়, তেমন রাগও হয়। প্রেম এবং প্রেমে প্রত্যাখ্যান দুটিই অতি ব্যক্তিগত এবং স্পর্শকাতর বিষয়। মানু্ষ অনেক সময় যুক্তি বুদ্ধি হারিয়ে ফেলে। সাধারণত এই ধরনের ঘটনায় কম বয়সের ছেলেমেয়েরা জড়িত। তাদের আবেগ বেশি। মন অপরিণত। প্রেম হলে বা ভাঙলে মনে করে, জীবনে এটাই একমাত্র সত্য, বাকি সব মিথ্যে। এই ভ্রান্তি যুগযুগান্ত ধরে চলছে। একে বড় করে দেখাও হয়। ব্যক্তিগত পর্যায় পর্যন্ত ঠিক থাকে, যত গোল বঁাধে তার থেকে বেরিয়ে এলে। প্রেমের পরিণতি সুখের হলে ‘‌শুভেচ্ছা’‌। কিন্তু রক্তাক্ত হলে? তথ্য বলছে, প্রত্যাখ্যাত ছেলেরাই‌ মেয়েদের আক্রমণ করে। নরম মনের প্রেমিকপ্রবরটি হয়ে ওঠে হিংস্র। গুলি করে, ছুরি দিয়ে আঘাত করে অথবা মুখে অ্যাসিড ছুঁড়ে নিজেকে পশুর থেকেও অধমে পরিণত করে। যাবতীয় সহানুভূতি সরিয়ে রেখে এদের এমন দৃষ্টান্তমূলক সাজা হওয়া উচিত, যাতে অন্যরা এই কাজ করবার আগে থমকে থাকে। কিন্তু কোনও কোনও সময় আগে কি কিছু করা যায় না?‌ মেয়েরা কি আগাম থানায় যেতে পারে না?‌ ছেলেরা কি মনোচিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে না?‌ অভিভাবক, শিক্ষক–‌শিক্ষিকারা কি ছেলেমেয়েদের একটু ‘‌বন্ধু’‌ হতে পারে না?‌  ‌

জনপ্রিয়

Back To Top