যৌন হেনস্থা নিয়ে এখন মেয়েরা অনেক বেশি মুখর। তারা অভিযোগ করছেন, প্রতিবাদ করছেন। কিছুদিন আগে পর্যন্ত এটা ভাবা যেত না। এই ধরনের হেনস্থা আমাদের দেশের মেয়েরা মুখ বুজে সহ্য করতে অভ্যস্ত ছিল। নির্যাতন, হেনস্থার কথা বললে মেয়েদের নিরাপত্তা অনিশ্চিত হয়ে পড়ত। তার ওপর ছিল পরিবার, সমাজের চাপ। বেশিরভাগ সময়ে ‘‌কাছের লোক’–‌‌ ই আপত্তি জানাত। বলত, যা ঘটবার তা ঘটে গেছে। কী হবে প্রতিবাদ করে? এতে জানাজানি আরও বেশি হবে। দরিদ্র, পিছিয়ে থাকা পরিবার বেশি ভয় পেত।‌ যৌন হেনস্থার খবর জানাজানি হলে হয়তো অবিবাহিত মেয়ের বিয়ে হবে না। আর মেয়েটি যদি বিবাহিত হয়, তাহলে অসম্মান হবে পরিবারের। মেয়েদের নিজেদের মধ্যেও নানা ধরনের দ্বিধা কাজ করত। সঙ্কোচ কাজ করত। মেয়েরা এই সঙ্কোচ এখন অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছে। তারা বুঝেছে, যৌন হেনস্থা যার ওপর করা হয় তার নয়, যে করে তার লজ্জা। দেশে মেয়েদের অভিযোগ শোনবার জন্য নানা ধরনের সরকারি বেসরকারি সংগঠন তৈরি হয়েছে। আইন শক্তিশালী হয়েছে। মিটু–‌এর মতো একটা জোরদার আন্দোলন পর্যন্ত শুরু হয়েছে। সবই দেশের জন্য মঙ্গলের। নারীর সম্মান ছাড়া দেশ এগোতে পারে না। কিন্তু থমকে যেতে হল প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর ঘটনায়। তার বিরুদ্ধে যে জঘন্য চক্রান্ত সাজানো হয়েছিল তা মেয়েদের জন্যই অসম্মানের। যৌন হেনস্থার বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদ, আন্দোলনকে কয়েক পা পিছিয়ে দিল। এই ধরনের মিথ্যে অভিযোগ যারা করে, তাদের বিরুদ্ধে মেয়েদেরই এগিয়ে আসতে হবে। যদি কেউ মনে করে, যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলে অতি সহজে কোনও পুরুষকে  বিপদে ফেলা যায়, তিনি সমাজের শত্রু। তার বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা হোক।‌

জনপ্রিয়

Back To Top