সমুদ্র–‌সংলগ্ন তিন জেলার মানু্ষ এত বড় না হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ অনেক দেখেছেন। বিপর্যস্ত হয়েছেন। ধ্বংসাবশেষ থেকে শুরু হয়েছে নতুন করে কোনওরকমে বেঁচে থাকার লড়াই। এবার সজাগ ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, সতর্ক ছিল প্রশাসন। বিপজ্জনক এলাকা থেকে ৬ লক্ষ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল নিরাপদ আশ্রয়ে। শোচনীয় মৃত্যুর সংখ্যা অপেক্ষাকৃত কম। কিন্তু, ভাঙল ঘরবাড়ি, ডুবে গেল ধান, সবজি, পানের বরজ। নোনা জল ঢুকে মিষ্টি জলের পুকুরের মাছ মরে ভাসল। ছাত্রছাত্রীদের বই, স্কুলড্রেস নষ্ট হল। বঁাধ ভেঙে গেল নানা জায়গায়। কবে পরিস্থিতি একটু বাসযোগ্য হবে, কত হাজার কোটি টাকা এবং কত মাস লাগবে পুনর্নিমাণে, কে জানে। কলকাতা সাধারণত ঘূর্ণিঝড় থেকে খানিকটা বেঁচে যায়। এবার তা নয়। ২৮৩ বছর আগে এসেছিল এমন মহা দুর্যোগ, ইতিহাস বলছে, ৩০ হাজার মানুষের প্রাণ নিয়েছিল। কলকাতাও অক্ষত থাকেনি। কলকাতা আরও শহুরে হয়েছে দিনে দিনে, আপাত–‌সুখী, আরামের ব্যবস্থা উচ্চ ও মধ্যবিত্তের। প্রাথমিক হিসেব, সাত হাজার বড় গাছ উপড়ে পড়েছে। রাস্তা বন্ধ। কেবল টিভি, ইন্টারনেট ব্যাহত তো বটেই, জরুরি প্রয়োজনেও যাতায়াতের সুযোগ থাকল না। বিদ্যুৎ নেই, জল নেই, কিছু মানুষ পথে নামলেন। সুব্রত মুখার্জি বললেন, এমন দুর্যোগের সময়ে মানুষের ধৈর্য কমে যাবেই। অভূতপূর্ব পরিস্থিতিতে অক্লান্ত থেকে কাজ করে যেতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, সাধারণ মানুষের দুর্গতির কথা শোনা আমাদের কাজ। কিন্তু, দু–‌তিনদিনেই এত অধৈর্য হওয়ার পেছনে কিছু ক্ষেত্রে অনেক সঙ্কীর্ণ রাজনীতির হাত। উসকে দেওয়া। যঁারা দুর্যোগকে সুযোগ হিসেবে নিচ্ছেন, তঁাদের মানুষ ক্ষমা করবেন না।   ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top