কারও কাছে হাত পাতার সময় কুণ্ঠা হতেই পারে। আন্তর্জাতিক স্তরে অবশ্য এই কুণ্ঠা দেখা যায় না। উন্নত দেশ উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশকে অর্থসাহায্য করছে, উন্নয়নশীল দেশ অনুন্নত দেশকে সাহায্য করছে, এ তো দেখাই যায়। খুব অল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণও প্রায় সাহায্যের পর্যায়েই পড়ে। আর, প্রাকৃতিক বিপর্যয়। হঠাৎ বিরাট কোনও বিপর্যয় ঘটে গেলে, অন্যান্য দেশ থেকে সরকারি সাহায্য আসে। যতটা না আর্থিক চাহিদা মেটাতে, তার চেয়েও বেশি সহমর্মিতা জানাতে। এবার কেরলে যে বন্যা হল, চুরানব্বই বছর পর বৃহত্তম বিপর্যয়। এত বৃষ্টি, এত বৃষ্টি, সব জলাধার খুলে দিতে হল, বৃষ্টি থামল না, জলের তোড়ে ভেসে গেল গ্রামের পর গ্রাম, শহরের বিস্তীর্ণ এলাকাও। কত ক্ষতি হয়েছে?‌ প্রাথমিক হিসেব, ১৯,৭৭২ কোটি টাকা। শেষ পর্যন্ত আরও বেশি দঁাড়াতে পারে। বলা হচ্ছে, এমন কিছু ক্ষতি হয়েছে, যা সামলে উঠতে বেশ কয়েক বছর লেগে যাবে। কেন্দ্রীয় সরকার কি জাতীয় বিপর্যয় ঘোষণা করল?‌ না। প্রথমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং গেলেন। দেখেশুনে বললেন, ১০০ কোটি টাকা অবিলম্বে দেওয়া হবে। রাজ্য সরকার নিজেরাই প্রাথমিকভাবে ৬৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে ত্রাণে নেমে পড়ে। বাংলা–‌সহ সাতটি রাজ্য সরকার বাড়িয়ে দেয় সহমর্মী সাহায্যের হাত। প্রয়োজন অনেক বেশি টাকা। গোটা দেশ তোলপাড়, যেতেই হল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। সবাই আশা করলেন, বড় বরাদ্দ আসছে। জাতীয় বিপর্যয় ঘোষণা করলে যাবতীয় দায়িত্ব নিতে হয়। অ–‌বিজেপি রাজ্যের প্রতি এতটা সদয় হওয়া যায় না। যাক, গেলেন মোদি। দেখলেন হেলিকপ্টার থেকে। ছবি–‌টবি বেরোল। প্রবল আলোড়িত তিনি ঘোষণা করলেন, ৫০০ কোটি টাকা দেবে কেন্দ্র!‌ কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন বলেছিলেন, এখনও চাই অন্তত ২০০০ কোটি টাকা। হাত একটু খুলে দিল্লি ফিরে এলেন প্রধানমন্ত্রী। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সরকার ৭০০ কোটি টাকা দিতে চাইল। বলল, ওদের দেশের উন্নয়নে কেরলবাসীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এটা ঋণশোধের সামান্য চেষ্টা। দিতে চাইল আরও কয়েকটি দেশ। ভারত সরকার নারাজ। কেন?‌ নীতি, না–‌নেওয়ার। ১৯৯৯ সালে গুজরাটের ভুজে মহাকম্পে কিন্তু আমিরশাহি থেকেই বিপুল অর্থ এসেছিল, ফেরায়নি বিজেপি সরকার। ভারত নাকি মানতে চায় না, বাইরের টাকা দরকার। বেশ তো, নিজেরা দিচ্ছেন না কেন, মোদিজি?‌ ভারত নাকি এমনই ‘‌বড়’‌ অর্থনৈতিক শক্তি, যে, সাহায্য নেওয়া মানায় না। বেশ তো, প্রয়োজনের টাকা ছাড়ছেন না কেন?‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top