রিগিং। কারচুপি। খুব চেনা শব্দ আমাদের। ভোটে কারচুপি নিয়ে আলোচনার ঝড় বয়ে যায় টেলিভিশনের পর্দায়। কিন্তু ভূত যে সরষের মধ্যেই। টেলিভিশনের রেটিং নিয়ে কারচুপির কথা আমরা সেভাবে টের পাইনি। বস্তুত দু্র্নীতিমুক্ত ভারত গড়ার বড়াই করে যে প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় এসেছেন, তাঁরই প্রবল সমর্থক একটি চ্যানেলের বিরুদ্ধে রিগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। অন্যরা শুনে এমন ভাব করছেন, যেন আকাশ থেকে পড়লেন!‌ বস্তুত বছর দশেক আগেই এই কারচুপি নিয়ে বিস্তারিত লেখা হয়েছিল একটি সর্বভারতীয় পত্রিকায়। অতীতে রেটিং ছিল ‘‌ট্যাম’‌, বিস্তর কারচুপির অভিযোগ ওঠায় গড়া হয়েছিল ব্রডকাস্ট অডিয়েন্স রিসার্চ কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া। তারা দেশের ৪৪ হাজার বাড়িতে ‘‌ব্যারোমিটার’‌ নামে একটি যন্ত্র বসিয়ে দেয়। কে, কতক্ষণ, কোন চ্যানেলের কোন অনুষ্ঠান দেখলেন সেটাই ওই যন্ত্রে রেকর্ড হয়ে যায়। হিসেবমতো প্রায় ২ লক্ষ মানুষের অভিরুচির একটা হালহকিকত বোঝা যায়। মূলত দুর্নীতি এড়াতেই এই পরিকল্পনা থাকলেও ফাঁকফোকর বেরিয়ে গেল। যারা যন্ত্রটি বসিয়েছে, তারাই খবরটা ফাঁস করে দিল টেলিভিশন চ্যানেলকে। এবার চ্যানেল কর্তা একখানা ঢাউস প্লাজমা টিভি নিয়ে সেই বাড়িতে হাজির। গিয়ে তাঁরা বললেন, ‘‌আপনারা এই টিভি–তে যা ইচ্ছে দেখুন, শুধু ব্যারোমিটার লাগানো টিভি–তে দিনে পাঁচ ঘণ্টা আমার চ্যানেলটা চালিয়ে রাখুন।’‌ ব্যাস, কেল্লা ফতে। দু’‌পক্ষই জয়ী। এক বিশেষজ্ঞ অঙ্ক কষে জানিয়েছেন, মাত্র ৫০টি বাড়িতে এই ব্যবস্থা করতে পারলে যে হিন্দি বিনোদন চ্যানেলের বাজারে অংশীদারি ২০ শতাংশ, তারা বেড়ে ২১.‌৫ শতাংশ পৌঁছবে। দ্বিতীয় থেকে প্রথম স্থানে লাফ। বিপুল ব্যবসা মুঠোয়। এই তথাকথিত খবরের চ্যানেলটিও একই অঙ্ক কষেছিল, হয়তো স্রেফ মোদিজির মুখ চেয়েই!‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top