জুনিয়র ডাক্তারদের আমরা ভালবাসি। কাজের জন্য, ওঁরা কমবয়সি হলেও, শ্রদ্ধা করি। হাসপাতালের পরিষেবা ওঁরাই তো সচল রাখেন। সুরক্ষা ও সম্মানের সঙ্গে কাজ করুন, চাই। এনআরএস–‌এ এক বৃদ্ধের মৃত্যুতে ডাক্তারদের গাফিলতির অভিযোগ তুলে বচসায় জড়ান রোগীর আত্মীয়–‌পরিজনরা। কিছুক্ষণ পরে ওঁরা ফিরে আসেন অনেক লোক নিয়ে। গুরুতর আহত হন দুই জুনিয়র ডাক্তার পরিবহ মুখার্জি ও যশ টেকওয়ানি। সেই ঘটনার প্রতিবাদে উত্তাল হয় এনআরএস, আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে গোটা রাজ্যেই। সাতদিন অনেক দুর্ভোগ হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বৈঠক করেন আন্দোলনকারীদের ৩০ জন প্রতিনিধির সঙ্গে। শুধু সেদিনের ঘটনা নয়, জমে–‌থাকা অনেক অভিযোগ তুলে ধরেন জুনিয়র ডাক্তাররা। সবাইকে বলতে ডাকেন মুখ্যমন্ত্রী। কিছু ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক নির্দেশ। কিছু ক্ষেত্রে খতিয়ে দেখার আশ্বাস। সন্তুষ্ট জুনিয়র ডাক্তাররা আন্দোলন প্রত্যাহার করেন। মানুষ স্বস্তিতে। শোনা যাচ্ছে, জুনিয়র ডাক্তাররা অখুশি, কিছু ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমরা বলছি, দয়া করে একটু ভাবুন। এনআরএস–‌এ হামলাকারীদের ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কঠিন ধারা দিয়েছে পুলিশ, কয়েকজন এখনও অধরা। খোঁজা হচ্ছে। প্রশ্ন, কেন জামিন পেয়েছে অভিযুক্তরা?‌ আদালত সরকার চালায় না। সরকারি আইনজীবী কঠোর হওয়া সত্ত্বেও, ৫ জনের জামিন হয়েছে। মামলা চলবে। প্রসঙ্গত, রোগীপক্ষ থেকেও অভিযোগ করা হয়েছিল জুনিয়র ডাক্তারদের বিরুদ্ধে, পুলিশের কাছে। মুখ্যমন্ত্রী কথা দেন, কোনও জুনিয়র ডাক্তারকে অভিযুক্ত করা হবে না। হয়নি। সুরক্ষার জন্য ডিজি নির্দেশ পেয়েছেন এবং দিয়েছেন। নোডাল অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। রোগীপক্ষের অসংখ্য মানুষের প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে। অভিযোগ–‌কেন্দ্র হয়েছে জোরদার। সমস্ত ব্যবস্থা করতে সময় লাগে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর মনোভাব পরিষ্কার। বর্ধমানেও দুজন আক্রমণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। একটু সময় দিন। কিছু হয়েছে, আরও হবে। আবেদন, আন্দোলনে যাবেন না। আশা, ওঁরা সাড়া দেবেন।

ছবি:  স্ক্রোল.ইন

জনপ্রিয়

Back To Top