বিচারপতি লোধা ভারতীয় ক্রিকেটের বড় সংস্কার করতে চেয়েছিলেন। পরিস্থিতি তখন জটিল ছিল। এন শ্রীনিবাসন এবং কিছু সঙ্গী বছরের পর বছর ক্রিকেট প্রশাসনের মাথায় বসে থাকছিলেন। যা হল, টানা ৯ বছরের বেশি কেউ কর্মকর্তা থাকতে পারবেন না। ৩ বছরের ‘‌কুলিং অফ’‌ পিরিয়ডে থাকা বাধ্যতামূলক। পাশ কাটিয়ে দখল রাখা চলছে। শ্রীনিবাসন বোর্ড সভাপতি নেই, নতুন নিয়মের পরে তামিলনাড়ু ক্রিকেট সংস্থারও পদে নেই। কিন্তু, ওই রাজ্যের ক্রিকেট সংস্থার প্রেসিডেন্ট কে হলেন?‌ শ্রীনিবাসনের মেয়ে‌!‌ অনুরাগ ঠাকুরকে সরতে হল। কিন্তু, তঁার ভাই অরুণ ধূমল রাজ্য ক্রিকেটের সর্বেসর্বা, বোর্ডের কোষাধ্যক্ষ। সৌরভ গাঙ্গুলি বোর্ড সভাপতি হওয়ায় ক্রিকেটপ্রেমিকরা খুশি। কিন্তু, যেহেতু সব মিলিয়ে (‌সিএবি ধরে)‌ ৯ বছর হয়ে যাচ্ছে, জুলাই মাসেই মেয়াদ শেষ হচ্ছে। সৌরভ কিন্তু এর আগে বোর্ডের কোনও পদে ছিলেন না। সিএবি–‌র সচিব ছিলেন, তারপর সভাপতি। চেহারা পাল্টে দিয়েছিলেন। অভিষেক ডালমিয়া এবং অন্য সহযোগীদের নিয়ে গড়ে তোলেন দক্ষ প্রশাসন। ‘‌ভিশন ২০২০’‌ তঁার ভাবনায় হয়েছে। সুফল দেখা গেছে। শুধু ঘরোয়া লিগ ঠিকমতো চলেছে, তা নয়। রনজি ট্রফির ফাইনালে দারুণ লড়েই হেরেছে। অরুণ লালকে কোচ করা তঁারই উদ্যোগে। ফল হাতেনাতে। বোর্ড সভাপতি হয়েই প্রথম কাজ, ইডেনে ভারতের প্রথম দিন–‌রাতের টেস্ট ম্যাচ। তঁার আমন্ত্রণে এসেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দিন–‌রাতের টেস্টই যে ভবিষ্যৎ, বুঝেছেন সৌরভ। কোহলিদের বুঝিয়েছেন। প্রাক্তন ক্রিকেটারদের আর্থিক সুবিধা বাড়িয়েছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে যঁারা খেলছেন, তঁাদের জন্য ভেবেছেন। অধিনায়ক হিসেবে কঠিন সময়ে ভারতীয় ক্রিকেটকে স্বচ্ছ ও সফল করেছিলেন। সুনীল গাভাসকার বলেন, ২০২৩ পর্যন্ত থাকুন সৌরভ। ডেভিড গাওয়ার, গ্রেম স্মিথ, কুমার সাঙ্গাকারা তঁাকে আইসিসি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে চান। সুপ্রিম কোর্ট বিবেচনা করুক। সদর্থক সংশোধন করুক।‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top