‌‌
রাহুল গান্ধী সম্পর্কে বারাক ওবামার মন্তব্যের সঙ্গে একমত হতে পারবেন না কংগ্রেসিরা, স্বাভাবিক। কিন্তু স্রেফ বই বিক্রির জন্য মনগড়া কিছু কথা লিখে দিয়েছেন ওবামা, এমনটা মনে করার কারণ নেই। হ্যাঁ, ওবামা যখন রাহুলকে দেখেছিলেন, তার পর রাহুল হয়তো অনেক পরিণত হয়েছেন। কিন্তু রাজনীতিতে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো আগ্রাসন দেখাতে পারেননি। কর্ণাটক ছেড়েই দিলাম, মধ্যপ্রদেশ হাতে পেয়েও হারিয়েছেন। প্রিয় বন্ধু জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াকে ধরে রাখতে পারেননি। লোকসভা নির্বাচনের পর সভাপতির পদ ছেড়েছেন, কিন্তু ওই পদের সব ক্ষমতাই ভোগ করছেন, কোনও দায় না নিয়ে। সম্ভব?‌ আগস্ট মাসেই রাহুল ‘‌টিম’‌ গড়েছিলেন, অবশ্যই তাঁর প্রিয়পাত্রদের নিয়ে। ওইদিনই কংগ্রেসে বিদ্রোহের আগুন ধিকিধিকি জ্বলতে শুরু করেছিল। মহারাষ্ট্র থেকে রাজ্যসভায় পাঠানো হল রাজীব সাতবকে। চটলেন মুকুল ওয়াসনিক আর অবিনাশ পান্ডে। শৈলজা, জিতিন প্রসাদ, আরপিএন সিং, রণদীপ সিং সুরজেওয়ালার ভাগ্যেও শিকে ছেঁড়েনি। হরিয়ানা থেকে দীপিন্দর সিং হুডা আর রাজস্থান থেকে কে সি বেণুগোপালকে রাজ্যসভায় পাঠানো হল। হরিয়ানায় দুরন্ত লড়েছিলেন দীপিন্দর, কিন্তু বেণুগোপাল তেমন কোনও যোগ্যতা দেখাতে পারেননি। অথচ ঝাড়খণ্ডের দায়িত্ব পেয়ে আরপিএন সিং কংগ্রেসকে ক্ষমতার অংশীদার করতে পেরেছিলেন। বিহারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল শক্তি গোহিল আর গুজরাটে ছিলেন রাজীব সাতব। দুজনেই চরম ব্যর্থ। কপিল সিবাস যদি ওঁদের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, ভুল কিছু করেননি। রাহুলের সমস্যা হল, তিনি কানে দেখেন। বিহারের সংগঠন সম্পর্কে দশ মিনিটও নির্ভরযোগ্য কারও কাছে রিপোর্ট নিয়েছিলেন বলে মনে হয় না। নিয়ে থাকলে ৭০টি আসন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতেন না। রাহুল ডুবছেন। ওবামা যেমন বলেছেন, ওই একই কথা, রাহুলের সম্ভবত গভীরে যাওয়ার তাগিদটাই নেই।‌

জনপ্রিয়

Back To Top