মিথ্যার নানারকম হয়। বলতে পারেন, মিথ্যা তো মিথ্যাই, নানারকম মানে কী?‌ সত্যেও একটু খাদ থাকে কখনও কখনও। ২০১৪ সালে ঝোড়ো প্রচার করে ক্ষমতায় এসেছিলেন নরেন্দ্র মোদি। অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তার মধ্যে একটি হল, সরকারে এলে, বিদেশে গচ্ছিত কালো টাকা ফিরিয়ে আনবেন, প্রত্যেক ভারতীয়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা চলে আসবে। যদি কিছু আসত, ১৫ হাজারও আসত, বলা যেত, মিথ্যায় একটু ভেজাল আছে। সুযোগ থাকল না। অমিত শাহ বলেন, ওই প্রতিশ্রুতিকে গুরুত্ব দেওয়ার মানে হয় না, নির্বাচনী প্রচারে অনেক প্রতিশ্রুতি থাকে। তঁার ভাষায় ‘‌জুমলা’‌। জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বললেন, প্রকল্পের সব দিক নিয়ে বলবেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, পরের কয়েক দিনে। সেই ভাষণে মোদি মূল কথাটা বলে দেন, জিডিপি–‌র ১০ শতাংশ, মোট ২০ লক্ষ কোটি টাকা কঠিন পরিস্থিতিতে খরচ করবে সরকার। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য শুনলাম আমরা, চার দিন ধরে। প্যাকেজ অদ্ভুত। বেশিটাই ঋণ। কিছুটা বাজেটেই ঘোষিত, চলতি প্রকল্পের অংশ। জিডিপি–‌র বড়জোর ২ শতাংশ ত্রাণ। নির্ভেজাল মিথ্যা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারি তথ্য নিয়ে ডাহা মিথ্যা বলা যায়?‌ বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ভিডিও ভাষণে বলেন, বাংলায় নির্মাণ শ্রমিকদের ৩০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। আসলে ১ টাকাও দেয়নি। নির্ভেজাল মিথ্যা। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ঘোষণায় ৬ রাজ্যের ১১৬ জেলার জন্য ৫০ হাজার কোটি বরাদ্দ হল। বাংলার একটা জেলাও নেই?‌ কেন?‌ বিজেপি নেতারা বলছেন, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনও বলেছেন, কোনও জেলায় অন্তত ২৫ হাজার পরিযায়ী শ্রমিক ফিরলে, যোজনায় থাকা যাবে। বাংলার সরকার কোনও তথ্যই দেয়নি। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র জানালেন, সব তথ্য দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের চিঠি পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে। তাহলে?‌ নির্ভেজাল, ভয়ঙ্কর মিথ্যা।    ‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top