কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে সত্যিই অনেক সময়। অতিমারী ঠেকাতে, আর্থিক বিপর্যয় সামলাতে ব্যতিব্যস্ত থাকারই কথা। নীতিগত বড় সিদ্ধান্ত অপেক্ষা করতে পারে না?‌ শিক্ষামন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল ঘোষণা করে দিলেন জাতীয় শিক্ষানীতি। দেশের অধিকাংশ শিক্ষাবিদ স্তম্ভিত। ঘুরপথে হিন্দি ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার ভয়ঙ্কর চেষ্টা। মাতৃভাষা–‌সহ তিনটি ভাষা পড়তে হবে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত। একজন তামিল ছাত্র বা ছাত্রী মাতৃভাষা তামিলের সঙ্গে আর কী পড়বে?‌ ইংরেজি। উচ্চশিক্ষার ভাষা, অনেক ক্ষেত্রে কাজের ভাষা, তামিলনাড়ুতে যথেষ্ট চালু ভাষা। কিন্তু, তৃতীয়টি কী হবে?‌ যেহেতু সিনেমার সূত্রে কিছুটা হিন্দি সবাই শোনে, একটু জানে, হয়তো হিন্দির দিকেই যেতে হবে। বাঙালি পড়ুয়া বাংলার সঙ্গে ইংরেজি নিতে চাইবে। তৃতীয় ভাষা?‌ কার্যত সেই হিন্দি। সরাসরি চাপিয়ে দিতে গিয়ে আটকে গিয়েছিল কেন্দ্র। এবার ঘুরিয়ে সেটাই করা হল। কেন্দ্রীকরণ, গৈরিকীকরণ, বাণিজ্যকরণ। উচ্চশিক্ষায় স্বল্পবিত্তদের অধিকার খর্ব হতে বাধ্য। মাধ্যমিক বলে কার্যত কিছু থাকবে না। সন্দেহ নেই, ড্রপ আউট বাড়বে। ন্যূনতম শিক্ষার সূত্রে চাকরি পাওয়া কমবে। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর কেন্দ্রীকরণ। প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন, সব রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। মিথ্যা। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, রাজ্য মত জানিয়েছিল। সে বিষয়ে সামান্য আলোচনাও হয়নি। শিক্ষা সংবিধানের যুগ্ম তালিকায়। তবু, একতরফা সিদ্ধান্ত, সঙ্ঘ পরিবারের পছন্দমতো সিদ্ধান্ত। কোথায় যাচ্ছি?‌

জনপ্রিয়

Back To Top