৩০ মে প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কারও কারও বক্তব্য ছিল, নরেন্দ্র মোদির মতো প্রধানমন্ত্রীর শপথে যাওয়ার কী দরকার?‌ নীতিগতভাবে যিনি মোদির নেতৃত্বে বিজেপি–‌র আগ্রাসী রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়ছেন, তিনি কেন সাম্প্রদায়িক দ্বেষে ভরা, যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রীর শপথে উপস্থিত থাকবেন?‌ আমরা মনে করি, যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে নির্ভুল ছিল। প্রধানমন্ত্রীর শপথ একটি জাতীয় আনুষ্ঠানিক ব্যাপার। যেভাবেই হোক ভোটে নির্বাচিত সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর দিনে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা অংশগ্রহণ করবেন, তাঁরা যে–দলেরই নেতা বা নেত্রী হোন না কেন, স্বাভাবিক রীতি। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী সৌজন্যের কথাও বলেছিলেন। একাধিক মুখ্যমন্ত্রী ও কয়েকজন বিরোধী নেতার সঙ্গে কথা বলে নিয়েছিলেন। কিন্তু, ২৯ মে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন, যাবেন না। কেন?‌ এলোমেলো অভিযোগ আগে থেকেই করছিলেন বিজেপি নেতারা, শপথের দু’‌দিন আগে কেন্দ্রীয় স্তরের নেতাও বলছেন, বাংলায় নাকি সম্প্রতি ৫৪ জন বিজেপি কর্মী ‌রাজনৈতিক সন্ত্রাসে প্রাণ হারিয়েছেন। মিথ্যা। দক্ষিণ কলকাতা কেন্দ্রে ওদের প্রার্থী চন্দ্রকুমার বসু ২৯ মে বসেছিলেন এক টেলিভিশন আসরে। বললেন, নিহতরা হয়তো নানা দলের। তালিকা?‌ দিতে পারেননি। নেতারাও তালিকা দিয়ে উঠতে পারছেন না। ৫৪ দূরের কথা, রাজনৈতিক সন্ত্রাসে (‌তৃণমূলের হাতে!‌)‌ ৪ জনের মৃত্যুও হয়নি। ‘‌৫৪ পরিবারের সদস্যদের’‌ শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হল, নিয়ে যাওয়া হল রাজধানী এক্সপ্রেসে। একজন জানালেন, তাঁর পিতার মৃত্যু হয়েছিল ২২ বছর আগে। অন্য একজনের মৃত্যু, মোদির সভা থেকে ফেরার সময় বাসের ছাদ থেকে পড়ে। এমন উদাহরণ অজস্র। শপথ অনুষ্ঠানকে কুৎসিত রাজনীতির জন্য অপব্যবহার করায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী গেলেন না। অভিনন্দন জানিয়ে টুইট করেছেন প্রধানমন্ত্রীকে। দ্বিতীয় সিদ্ধান্তও নির্ভুল।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top