পেঁয়াজের দামবৃদ্ধি কোনও রাজ্য সরকারের হাতে নেই। কেন্দ্র ব্যবস্থাপনায়। প্রয়োজনে আমদানি। আলুর দাম বাড়লে রাজ্য সরকার ব্যবস্থা নেয়। অন্য সবজির দাম নানা কারণে বাড়লে, রাজ্য প্রশাসন চেষ্টা করে, যাতে কমানো যায়। দেশে পেঁয়াজের ফলন সবচেয়ে বেশি মহারাষ্ট্রের নাসিক অঞ্চলে। দেশের চাহিদার অর্ধেকের বেশি জোগান দেয় নাসিক। মহারাষ্ট্রে গত কয়েক বছরে দেবেন্দ্র ফড়নবিশ সরকার পেঁয়াজ চাষিদের কথা ভাবতে চায়নি। দাম পাননি কৃষকরা, আত্মহত্যার ঘটনা বহু। এবার অতিরিক্ত বর্ষণে পেঁয়াজ চাষে বড় ক্ষতি। দেবেন্দ্র ফড়নবিশের সরকার উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়নি, কৃষকদের পাশে দাঁড়ায়নি। বিরোধীরা বলেছেন, দাবি তুলেছেন। শারদ পাওয়ার প্রধানমন্ত্রীর কাছে দরবার করেছেন। যখন দুর্গতি চরমে উঠল, চাষিদের মাথায় হাত, এমনকী শরিক শিবসেনাও চাপ দিয়েছে আপৎকালীন ব্যবস্থার জন্য, দেবেন্দ্র ফড়নবিশ ব্যস্ত থেকেছেন, ঘুরপথে সরকার গড়ার জন্য। দুর্যোগে চরম ক্ষতি, ফলন কম, ভুগতে হচ্ছে সারা দেশের মানুষকে। রাজ্যের কিছু করার নেই, তবু বসে থাকেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। টাস্ক ফোর্সকে সক্রিয় করেছেন, নিজে ছুটে গিয়েছেন বাজারে। রেশন দোকান, সুফল বাংলা, স্বনির্ভর প্রকল্প কেন্দ্র, সব মিলিয়ে প্রায় ১৫০০ জায়গা থেকে দেওয়া হয়েছে ভর্তুকিতে পেঁয়াজ। কিলোগ্রাম ৫৯ টাকা। প্রতি কিলোগ্রামে অন্তত ৫০ টাকা ভর্তুকি। দেশে ক্ষোভ। সংসদে যখন প্রশ্ন করা হল, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বলেন, আমি  যে পরিবার থেকে এসেছি, সেখানে পেঁয়াজ ঢোকে না, তাই পেঁয়াজের দাম কত বলতে পারব না। আরেক মন্ত্রী আর এক কাঠি উঠে বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে কী বলব, কখনও পেঁয়াজ কিনি না। ব্যাপারটা দাঁড়াল, পরিবহণ সমস্যা হলে, কোনও মন্ত্রী বলবেন, বাসে তো চড়ি না, কী বলতে পারি?‌ রেল প্রসঙ্গে বলবেন, বিমানে যাতায়াত করি, রেল নিয়ে কী করে বলব। উচ্চশিক্ষা নিয়ে বলবেন, কলেজে যাইনি কখনও, কী করে সে বিষয়ে বলব। হ্যঁা, এমন সরকার চলছে দেশে।   ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top