দেবেশ রায়ের জীবনাবসান হল। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত সজাগ ছিলেন সমাজ, দেশ ও মানুষকে নিয়ে। বহুমাত্রিক এই মানুষটির জন্ম পূর্ববঙ্গের পাবনা জেলায়। তাঁর বয়স যখন ১০, পরিবার চলে আসে জলপাইগুড়িতে। পরবর্তী জীবনে, বিশিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হিসেবে স্থায়ী বাস শুরু কলকাতায়। কিন্তু জলপাইগুড়ি তথা উত্তরবঙ্গের শিকড় তিনি আলগা হতে দেননি। জলপাইগুড়ির মানুষ চিরকাল তাঁকে স্থানীয় বিশিষ্ট মনে করেছেন। ছাত্রজীবনেই রাজনীতিতে যোগ। পড়াশোনায় নিষ্ঠাবান, কমিউনিষ্ট পার্টির কর্মী হিসেবে অক্লান্ত। অবিভক্ত কমিউনিষ্ট পার্টির জেলা নেতা। ছাত্র সংগঠনে গুরুদাস দাশগুপ্তর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। সঙ্কীর্ণ থাকেননি, প্রগতির পক্ষে অবিচল যোদ্ধা সারা জীবন। একেবারে ভিন্ন ধারার সাহিত্যিক। তাঁর পূর্বসুরি হিসাবে কারও নাম বলা কঠিন। সচেতন রাজনীতি থেকেছে, কিন্তু তাঁর বিপুল সাহিত্যকর্ম ব্যাপকভাবে ধরে রেখেছে সমাজ ও মানুষকে। যযাতি প্রথম উপন্যাস। দারুণ। তিস্তাপারের বৃত্তান্ত ও বরিশালের যোগেন মণ্ডল নিঃসন্দেহে মহাকাব্যিক উপন্যাস, যা কালজয়ী। গল্পে অসাধারণ। ধর্না, নিরস্ত্রীকরণ কেন, আরও অনেক। ‘‌নিরস্ত্রীকরণ কেন’‌ পড়ে সুভাষ মুখোপাধ্যায় বলেছিলেন, এমন গল্প কি পৃথিবীতে কেউ লিখেছে?‌ প্রশ্নেই উত্তর। আর একটা দিক আমরা স্মরণ করব। সংবাদপত্রে প্রকাশিত অজস্র দুর্ধর্ষ নিবন্ধ। প্রখর যুক্তি, অনণুকরণীয় ভাষা, চাপা কিন্তু তীব্র আবেগ। আজীবন বামপন্থী। সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে অতন্দ্র যোদ্ধা। রাজ্যে বিজেপি–‌র গুরুত্ব বাড়ার পর, সরাসরি লিখেছেন, দাঁড়াতে হবে মমতা ব্যানার্জির পাশে। সঙ্কীর্ণ রাজনীতি তাঁকে স্পর্শ করেনি। প্রণাম। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top