সমস্যাটা প্রায় সঙ্কটের দিকে পৌঁছে গেছে। বাংলা টেলিভিশন সিরিয়াল ঘিরে একদিকে প্রযোজকরা, অন্যদিকে শিল্পী ও কলাকুশলীরা। শিল্পীদের দাবি, পরের মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে পারিশ্রমিকের টাকা দিয়ে দিতে হবে। ১০ ঘণ্টার বেশি কাজ করা নিয়েও ক্ষোভ। রাতে বাড়ি ফেরা থেকে সকালে সেটে পৌঁছনোর মধ্যে ন্যূনতম সময় দিতে হবে। হয়তো ১৪ ঘণ্টাও থাকতে হয় সেটে। গভীর রাতে বাড়ি ফিরে পরদিন সকাল শুরুর সময়ে ফের স্টুডিওয় পৌঁছে যাওয়া ভাল নয়, শুধু শরীরের ওপর নয়, মনের ওপরও চাপ পড়ে। নিজস্ব সময় বলতে কিছু থাকে না। পরিবারেও সময় দিতে পারেন না শিল্পীরা। রাতে ৬ ঘণ্টা ঘুম তো দরকার। না হলে, একসময়ে সব কিছু ভেঙে পড়ে। অনেকে সিরিয়াল করা থেকে সরিয়ে নেন নিজেদের। সময়মতো পারিশ্রমিক পাওয়াটাও নিশ্চয় জরুরি। শোনা যাচ্ছে, সব প্রযোজক নন, কোনও কোনও প্রযোজক যথাসময়ে টাকা দেন না। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলনে দুটো দিকই তুলে ধরেছেন। এক, ঠিকঠাক পারিশ্রমিক না পেলে, সময়মতো না পেলে, শিল্পীর পক্ষে কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব?‌ দুই, যদি ১০ ঘণ্টারও বেশি কাজ করতে হয়, কাজের মানও ধরে রাখা কি সম্ভব?‌ অসম্ভব। আর্টিস্ট ফোরামের সঙ্গে রয়েছে কলাকুশলীদের ফেডারেশনও। ফেডারেশনের সঙ্গে প্রযোজক পক্ষের সঙ্ঘাত মাঝেমধ্যেই লেগে থাকে। শিল্পীদের এমন উদ্যোগ প্রতিবাদ অবশ্য স্বাভাবিক ঘটনা নয়। শেষ কবে এরকম হয়েছে, বলা কঠিন হয়ে যাবে। আর্টিস্ট ফোরামের নেতৃত্বে প্রসেনজিৎ। যিনি শুধু অগ্রগণ্য অভিনেতা নন, ফিল্ম (‌ও টেলিভিশন)‌ ইন্ডাস্ট্রির প্রয়োজনে সবসময় সজাগ থাকেন। সিরিয়াল–‌নির্ভর নন তিনি। কিন্তু সব শিল্পীর পক্ষে বুক চিতিয়ে দঁাড়িয়েছেন। অনেক বড় প্রযোজকই তঁার ঘনিষ্ঠ। পারস্পরিক শ্রদ্ধা–‌ভালবাসার সম্পর্ক আছে। তবু, হয়তো একটু ঝুঁকি নিয়েই আন্দোলনের মুখ হয়ে উঠেছেন প্রসেনজিৎ। বিষয়টার গভীরে ঢুকলে দেখা যাবে, একটা ‘‌চেন’‌ কাজ করছে। প্রযোজকরা সময়মতো টাকা দিতে পারছেন না, আবার সংশ্লিষ্ট চ্যানেল তঁাদের প্রাপ্য যথাসময়ে মেটায় না। এই ‘‌চেন’‌–‌এর প্রান্তে দঁাড়িয়ে শিল্পী ও কলাকুশলীরা কোণঠাসা। সংশ্লিষ্ট সকলে এগিয়ে আসুন। বহু সাধারণ মানুষের, প্রবীণদের প্রধান বিনোদন সিরিয়াল। তঁাদের কথা ভাবতেই হবে।‌

জনপ্রিয়

Back To Top