সমাজে মানুষকে নানাভাবে ভাগ করা হয়। ধর্ম, বর্ণ, জাতিতে ভেদাভেদ চলতেই থাকে। আমরা সবাই জানি, এই ভাগ লজ্জার এবং ‌সভ্যতা–‌বিরোধী। এই ভাবে মানুষকে যাতে দেখা না হয় তার জন্য অনেক ব্যবস্থা হয়েছে, অনেক লড়াই হয়েছে। আমাদের দেশে ধর্ম, বর্ণ, জাতের নামে যুগ যুগ ধরে অন্যায় চলছে। কিছু মানুষকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের সামনের সারিতে নিয়ে আসবার জন্য সরকারকে নানা রকম পরিকল্পনা করতে হয়েছে। এখনও করতে হয়। দীর্ঘদিনের পাপ থেকে মুক্ত হতে সময় তো লাগবেই। এই ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে সংরক্ষণ। যারা সমাজে পিছিয়ে রয়েছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের জন্য সংরক্ষণ প্রয়োজন। যারা ধর্ম, বর্ণ, জাতের ভাগাভাগিতে বজ্জাতি করে সমাজে উচ্চ আসন দখল করে বসে রয়েছে, তারা সংরক্ষণ মোটে পছন্দ করে না। কিন্তু একবারও ভেবে দেখে না, দেশের সামাজিক ইতিহাসটি। একদিন কী অন্যায়ভাবে তৈরি করা হয়েছিল জাতপাত নামের কুৎসিত প্রথাটি। বেশি যোগ্যতা, বেশি মেধা, বেশি কৃতিত্বের পরেও কিছু মানুষকে থাকতে হয়েছে নীচে। কমিউনিস্টরা বলে থাকেন, মানুষ আসলে দু’‌রকম। ধনী ও দরিদ্র। চিরকাল দরিদ্র মানুষকেই বেশি অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে। সে–‌ই হয়েছে বঞ্চিত। ধর্ম, বর্ণ, জাতের মধ্যে থাকুক বা না থাকুক কষ্ট তাকেই পেতে হয়। তাই সংরক্ষণ যদি করতেই হয়, করা উচিত সেই বিচারে। দরিদ্র মানুষকে সুযোগ দিতে হবে। রাজ্য সরকার সেই সুযোগ এনে দিল। রাজ্যে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া ছেলেমেয়েদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবং চাকরির জন্য সংরক্ষণ চালু করা হচ্ছে। রাজ্য মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। আশা করা যায়, যাঁরা বামপন্থী, কমিউনিস্ট মতাদর্শে বিশ্বাস করেন যাঁরা, তাঁরা ক্ষুদ্র বিতর্কে না গিয়ে সরকারকে এই বিষয়ে সমর্থন করবেন। ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top