প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন তাঁর নবতম ‘‌চৌকিদার’‌ অবতারে অবতীর্ণ, তখন রাঁচিতে নীরবে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন আসল চৌকিদারেরা। ঝাড়খণ্ড বিজেপি শাসিত, রাজ্যের ২৪ জেলায় প্রতিটি থানার অধীন ১০টি করে গ্রাম সামলানোর দায়িত্ব ওই চৌকিদারদের। গত ৪ মাস তাঁরা মাইনে পাননি। এঁদের ঠিক ওপরেই আছেন ২০০ দফাদার, তাঁরাও মাইনে পাননি। আর যাঁরা নিজের নামের সামনে ‘‌চৌকিদার’‌ শব্দটি জুড়ে প্রচার নিনাদে মেতেছেন, তাঁদের কাছে এ–‌ও একটি ‘‌যেমন খুশি তেমন সাজো’‌ প্রতিযোগিতা!‌ ধরুন ‘‌চৌকিদার’‌ পীযূষ গোয়েলের কথা। মোদির মন্ত্রিসভায় এসেই তিনি তাঁর কোম্পানিটি পিরামল গোষ্ঠীর কাছে হাজার গুণ বেশি দামে বেচে দিয়েছেন। শিরডি ইন্ডাস্ট্রিজ নিয়েও বেশ কিছু অভিযোগ উঠেছে তাঁর নামে। এই রকম তালিকা ক্রমেই দীর্ঘ হতে দেখা যাচ্ছে। ওই তালিকায় আছেন খ্যাতকীর্তি বিএস ইয়েদিয়ুরাপ্পা, পঙ্কজা মুন্ডেরা। দেখে মানুষ হাসি চাপতে পারছেন না। পাহারাদার, চৌকিদার। কখনও সিকিউরিটি এজেন্সির গালভরা নাম আর ধরাচুড়ো। মর্মন্তুদ জীবনকাহিনি এই নিরাপত্তাকর্মীদের। ছুটি নেই, সামাজিক নিরাপত্তা নেই। ঢাল নেই–‌তরোয়াল নেই, নিধিরাম সর্দার। চরম বিপদের মুখে পড়তে হয়। এই মানুষগুলোকে নিয়ে নির্মম রসিকতা কি না করলেই চলছিল না?‌ ২০১৮ সালের ৩১ মার্চ ‘‌চৌকিদার’‌ অরুণ জেটলি নিজের ৩৩ কোটি টাকার সম্পত্তির হিসেব দিয়েছেন। দিল্লিতে তিনটি বাড়ি, গুরুগ্রাম, গান্ধীনগর ও অমৃতসরে আরও তিনটি বাড়ি আছে। তাঁর জোড়া মার্সিডিজ, হীরের গয়নার হিসেব দেখে প্রকৃত চৌকিদারের নীরবে চোখের জল পড়বে। যেমন কিরণ খের। ৬১ লাখি মার্সিডিজ চড়েন। কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি। ১০ কেজি সোনা। এ সব তাঁর হলফনামায় লেখা। কোনও প্রকৃত চৌকিদারের ভরণপোষণের ভার এঁরা নিয়েছেন?‌ এখনও তেমন কোনও খবর নেই।

জনপ্রিয়

Back To Top