দিনে দু’‌বার করোনা সংক্রমণ নিয়ে তথ্য দেওয়া হচ্ছিল, বন্ধ করে দিল গুজরাট সরকার। সামাজিক মাধ্যমে তথ্য দেওয়া, সাংবাদিক সম্মেলনও বন্ধ করে দেওয়া হল। আমেদাবাদে সংক্রমণ ও মৃত্যু নিয়ে আলাদা তথ্য দেওয়া বন্ধ হল এবার। কার্পেটের নীচে সব ধুলো পাচার করে দেওয়ার পাকা বন্দোবস্ত!‌ গুজরাটে প্রবল গতিতে সংক্রমণ বাড়ছে, এবং ততোধিক প্রবল গতিতে অন্য রাজ্যগুলির দিকে নজর ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্র। নিজের ভাবমূর্তিতে বিশ্বনেতার পমেটম লাগাতে সদাব্যস্ত আমাদের প্রধানমন্ত্রী এদেশে করোনা আমদানির মূল হোতা বললে অত্যুক্তি হবে কি?‌ ৩০ জানুয়ারি বিদেশ থেকে ভারতে আসেন এক করোনা সংক্রমিত, সেই প্রথম। নরেন্দ্র মোদি নির্বিকার ছিলেন ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, ‘‌নমস্তে ট্রাম্প’‌ নিয়েই তখন তাঁর যত মাথাব্যথা। ওই উৎসব সফল করতে আমেদাবাদে এসেছেন প্রায় ২৮ হাজার অনাবাসী ভারতীয়, বিমানবন্দর সূত্রেই পাওয়া এই তথ্য। এঁদের যথাবিহিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়নি, হাতে স্রেফ নিভৃতবাসের ছাপ্পা মেরে দেওয়া হয়েছিল। তঁারা মোদিভক্ত, উপরন্তু ডলার উপার্জন করেন, স্বভাবতই নিয়মকানুন উড়িয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়িয়েছেন। স্টেডিয়াম ভরিয়ে উদ্বাহু হয়ে দুই প্রচারলিপ্সু নেতার নামে জয়ধ্বনি করেছেন। নিজের রাজ্যের বিপুল ক্ষতি করে দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি, আজ হয়তো নিজেও বুঝছেন। ‘‌স্যুট–‌বুটের সরকার’‌ বলে রাহুল ভুল কিছু করেননি। মোদি বুলেট ট্রেন, আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্রের মতো প্রকল্প আমেদাবাদে নিয়ে যেতে যত ব্যস্ততা দেখিয়েছেন, যত উদ্যম দেখিয়েছেন প্যাটেলের মূর্তি গড়তে, তার এক শতাংশও নিজের রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতির জন্য দেখাননি। হাইকোর্টের তীব্র তিরস্কার, সার্বিক ব্যর্থতায় গুজরাট ধুঁকছে। মোদি নিজেকে ‘‌কিং ক্যানিউট’‌ মনে করছেন, তিনি বললেই যেন সমুদ্রের ঢেউ পিছনে সরে যাবে!‌ বললেন শ্রমিকরা যেখানে আছেন সেখানেই থাকুন, সকলের খাবার জুটবে, কারও চাকরি যাবে না। দেখা গেল ‘‌ঢেউ’‌ কথা শুনছে না, চাকরি নেই, আশ্রয় নেই, হাঁটতে হাঁটতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। এবার রাজ্যের ঘাড়ে সব দায় চাপিয়ে কেটে পড়ার তাল খুঁজছেন। আপনি নেতা?‌ না।‌

জনপ্রিয়

Back To Top