স্বপ্না বর্মন যে স্বপ্ন দেখতে পেরেছেন, এটাই অনেক বড় কথা। স্বপ্ন, দেশের প্রতিনিধিত্ব করব, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে মেডেল নিয়ে আসব। স্বপ্নার বাবা ভ্যানরিকশা চালাতেন। কয়েক বছর আগে অসমর্থ, সামান্য রোজগারের পথও রুদ্ধ। মা চা–‌বাগানে নিলেন ঠিকা–‌শ্রমিকের কাজ। সংসার চলে না, কষ্ট করে বেঁচে থাকতে হয়। মেয়ের ইচ্ছা, ভাল অ্যাথলিট হবে। কম বয়সেই মনে হয়েছিল, সুযোগ পেলে বড় হতেই পারে। দিনের কাজ সেরে, কখনও আগে, মা সাইকেল চালিয়ে ছোট্ট মেয়েটিকে দিয়ে আসতেন মাঠে। দৌড়বার জন্য জুতো চাই। নেই। চরম দারিদ্র, পয়সা নেই জুতো কেনার। এমনি জুতোতে হবে না, কারণ, মেয়ের দুই পায়েই ৬টি করে আঙুল। বিশেষভাবে তৈরি জুতো চাই। চাই তো বটে, দেয় কে?‌ প্রথম দিকে খালি পায়েই অনুশীলন। যখন এক জোড়া জুতো জোগাড় হল, খুশি, কিন্তু দৌড়তে দৌড়তে লাফাতে লাফাতে সেই জুতো জীর্ণ। ছেঁড়া জুতো সেলাই করে দিয়েছেন মা, স্বপ্না হাল ছাড়েনি। কলকাতায় রাজ্য স্তরের প্রতিযোগিতায় পৌঁছে সেই মেয়ে চমকে দিল সবাইকে। অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকরা বললেন, এ মেয়ে অনেক দূর যাবে, যদি যত্ন করা হয়। সাই–‌এ প্রশিক্ষণ চলতে থাকল। দু–‌বেলা কিছু পুষ্টিকর খাবার পেল। ছোটবেলায় একটা কলা বা একটা ডিমসেদ্ধও পেত না। পুষ্টির অভাবে ধুঁকতে ধুঁকতেও হাল ছাড়েনি যে–‌মেয়ে, একটু সাহায্য ও যত্ন পেয়েই সে বাড়তে থাকল। হেপ্টাথলন। সবচেয়ে কঠিন ইভেন্ট। দৌড়, লাফ, জ্যাভেলিন থ্রো, সাতটি মিলে একটি ইভেন্ট। এর আগে ভারতের একজনই এশিয়ান গেমসে রুপো পেয়েছেন। দু’‌বার। সোমা বিশ্বাস। সোমা বাংলার অ্যাথলেটিক্স জগতে এক বিখ্যাত নাম। স্বপ্নার সোনা আমাদের গর্বিত ও চমৎকৃত করল। ৭ দিন ধরে ভুগেছেন দঁাতের ব্যথায়। শেষ ইভেন্টের আগের রাতে ব্যথায় ঘুমোতে পারেননি এক ফেঁাটাও। ছেড়ে দেননি। ভেবেছেন, এবারই করে দেখাব, না পারলে সত্যিই ছেড়ে দেব। এশিয়ান গেমসে স্বপ্না শুধু সোনা নয়, জয় করলেন অনেক কিছু। পুরস্কার। চাকরি। অলিম্পিকে যাওয়ার রসদ। এ শুধু স্বপ্নার নয়, আমাদের সকলের স্বপ্নপূরণ।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top