পুজো এবং গো–সেবায় নাকি দিনে আড়াই ঘণ্টা সময় দিতে হয় যোগী আদিত্যনাথকে। গরু–দায়িত্বের সঙ্গে আছে গুরুদায়িত্ব, রাজ্য পরিচালনার। সচিবালয়ে বসে কত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন। সাম্প্রতিক, হজ হাউসের রঙ সাদা–সবুজ থেকে গেরুয়া করে দেওয়া। এবং মাঝেমধ্যে রাজ্যের নানা জায়গায় সফর। স্থানীয় মানুষের উপকার হয়। সেই যে, তিনি দুই গরিব মানুষের বাড়িতে গিয়ে কথা বললেন, জানতে চাইলেন তাঁদের অভাব–অভিযোগ নিয়ে। এক–একটা বাড়িতে ছিলেন পাক্কা আধ ঘণ্টা। স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থায় ত্রুটি রাখেনি। অতি সাধারণ কাঠের চেয়ার সরিয়ে রাখা হল দামি সোফা সেট। দরজায় নতুন পর্দা। লাগানো হল এসি মেশিন। এত কিছু পেয়ে এই দুই পরিবারের কেউ আর অভাব–অভিযোগ জানাতে চাননি। উপকৃত তো হয়েই গেছেন। পরদিনই সোফা, পর্দা, এসি— সব সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হল তৎপরতার সঙ্গে। খবরটা সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে যেতেই ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী। বলে দিলেন, যেখানেই যান, যেন কোথাও বিশেষ ব্যবস্থা না করা হয়। ভাল। আর হবে না। দিন কয়েক আগে যোগী গিয়েছিলেন বারাণসীতে। এমনিতেই বিখ্যাত শহর, তার ওপর এই কেন্দ্রের সাংসদ হলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। তিন বছরে উন্নতি?‌ গঙ্গা দূষণ অব্যাহত। শহর আরও নোংরা হয়েছে। যানজটের ঠেলায় আরও বেশি ভুগছেন পর্যটকরা, স্থানীয় মানুষও। সেই বারাণসীতে গিয়ে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পথবাসী দুর্গত মানুষদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেন। গরিব মানুষগুলোকে দেওয়া হল কম্বল আর তোশক। বেশি দামি নয়। স্থায়ী উপহার যে। যোগী ঘুরে গেলেন এবং পরদিনই ফিরিয়ে নেওয়া হল কম্বল–তোশক। আবার সংবাদমাধ্যম, আবার হইচই। এবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হল, আবার দেওয়া হবে, একটু পরিষ্কার করিয়েই। একদিনেই অপরিষ্কার হয়ে গেল?‌ কবে ফের দেওয়া হবে?‌ যেদিন ফের আসবেন যোগী?‌

জনপ্রিয়

Back To Top