লোকসভায় সেই কলাবতী–‌বক্তৃতা ছিল সাজানোগোছানো। শিক্ষিত প্রস্তুতিরই ফল। বাগ্মিতা ছিল না, ধরনটা ছিল ক্লাসে পড়া দেওয়ার, তবে পাশ করে গিয়েছিলেন। ভাল বলতে পারেন না, গলাও যথাযথ পর্দায় ওঠে না, ভালভাবে রক্ষণাত্মক। এরকমই ছিল রাহুল গান্ধীর অবস্থা। বিবাসনা–‌পর্বের পর, লম্বা ছুটি কাটিয়ে ফিরে খানিকটা পরিবর্তিত হিসেবে আবির্ভূত হলেন। গলা একটু খুলল। প্রস্তুতিতে উন্নতি লক্ষ্য করা গেল। চূড়ান্ত ব্যর্থ মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বলার সুযোগ অনেক, তার কিছুটা সদ্ব্যবহার করলেন সোনিয়া–‌তনয়। গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনে বাচাল মোদির বিরুদ্ধে সংযত। ধীরস্থির রাহুল কিছুটা উঠে এলেন। তারপর, ‘‌প্রধানমন্ত্রী হতে প্রস্তুত আছি’‌ বলার মারাত্মক ভুলটা করা ছাড়া, মোটামুটি ঠিকঠাক চলছিল। কর্ণাটকে বুঝলেন, আঞ্চলিক দল জেডিএস–‌কে মুখ্যমন্ত্রিত্ব না ছেড়ে দিলে বিজেপি রাজ্য ক্ষমতায় ফিরবে, যা অক্সিজেন জোগাবে পড়তে–‌থাকা শাসক দলকে। ক্রমশ আরও বুঝবেন, ‘‌কংগ্রেস একাই পেরে যাবে’‌ ভাবলে ভুল হবে, নানা রাজ্যে শক্তিশালী আঞ্চলিক দলকে গুরুত্ব না দিলে বিজেপি–‌কে হারানো যাবে না। কংগ্রেস সভাপতির আচরণে, কথাবার্তায় সংযম এল। প্রকাশ্যে বললেন, কে প্রধানমন্ত্রী হবে তা নিয়ে এখন ভাবছি না, আমরা সবাই মিলে বিজেপি–‌কে হারাব, সরাব। ভয়াবহ বন্যার খবর পেয়েই কেরলে যেতে চাইলেন। কেন্দ্রের অনুমতি পাননি। আগে যাবেন প্রধানমন্ত্রী, সুতরাং নানা কৌশলে বাধা। মোদি গেলেন। তারপর আরও অনেকে। রাহুল কোথায়?‌ গেলেন কেরলে, তবে মাঝে বেশ কয়েকটা দিন চলে গেল। বন্যার আক্রমণ কিছুটা কমে এসেছে, শুরু হয়েছে পুনর্গঠনের কঠিন কাজ, কেরলে কংগ্রেস সভাপতি। এতদিন কোথায় ছিলেন?‌ বিদেশে। পৃথিবীর নানা শহরে বাছাই–‌করা শ্রোতাদের সামনে বক্তৃতা। বিস্তর অপ্রাসঙ্গিক কথা বললেন। কয়েক মাস পরে লোকসভা ভোট, বিদেশে এমন সভা করে কী লাভ?‌ আর, আজেবাজে কথা বলারই বা মানে কী?‌ বলে দিলেন, ১৯৮৪ সালে দিল্লিতে হাজার হাজার শিখ হত্যায় কংগ্রেসের কোনও ভূমিকা ছিল না। হাস্যকর। জগদীশ টাইটলার, সজ্জন কুমার প্রমুখ কংগ্রেস নেতা সরাসরি অভিযুক্ত। কংগ্রেসের হয়ে ক্ষমা চেয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। দুটো কথা। রাহুল, বিদেশে কম ঘুরুন। এবং, কথা একটু কম বলুন।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top