‘‌বিজেপি–‌ই জিতবে’‌ বলে হুঙ্কার দিচ্ছিলেন, এমন কিছু ব্যবসায়ী–‌দোকানদারের ঘুমন্ত ছবি টুইটারে পোস্ট করেছেন একজন। কেনাকাটা নেই, মন্দার মেঘ ছেয়ে এসেছে। অথচ কোনও টেলিভিশন চ্যানেলে এই ছবি ভেসে আসছে না। অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা নিয়ে আলোচনা?‌ না। দিনরাত পাকিস্তান আর পাকিস্তান!‌ নোটবাতিল, এলোমেলো জিএসটি–‌র পর কাশ্মীরের ধাক্কা— অর্থনীতির রক্তমজ্জাই শুষে নেওয়া হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে খুবই নিম্নমানের রসিকতা করলেন, মহানুভবের পেটোয়া সাংবাদিকেরা বলতে থাকলেন, এই তো বন্ধুত্বের অভিজ্ঞান!‌ এবার পাকিস্তান নাকি বুঝবে ঠ্যালা!‌ পাকিস্তানে কেউ ভারত–‌বিরোধী কোনও মন্তব্য করলেই হল, দীর্ঘ এক ঘণ্টার আলোচনা বাঁধা!‌ বুঝতে অসুবিধে নেই যে, এই জাতীয়তাবাদের জিগির নেহাতই মূল সমস্যা থেকে নজর ঘুরিয়ে দেওয়ার ফিকির। যেমন ধরুন ‘‌মেক ইন ইন্ডিয়া’‌, ‘‌স্কিল ইন্ডিয়া’‌ কিংবা ‘‌মুদ্রা লোন’‌— গালভরা সব প্রকল্পের ঢাক। চাহিদাই নেই, উৎপাদন শিকেয় উঠেছে। মুদ্রা যোজনায় ঋণ নিয়ে কোনও সফল উদ্যোগের কাহিনী শোনা যায়নি। সরকারের বহু টাকা জলে গেছে। হ্যাল–‌এর মতো প্রতিষ্ঠান লাটে তুলে রাফাল তৈরির কাজ এক আম্বানিকে, বিএসএনএল লাটে তুলে টেলিকম ব্যবসার ফাঁকা জমি আরেক আম্বানিকে। রেল বেসরকারীকরণের সব ব্যবস্থাই পাকা, অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিকে ঠুঁটো জগন্নাথ করে প্রতিরক্ষা উৎপাদন বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার ছক তৈরি। এবার কয়লা। দেশের বিপুল সম্পদ এবার বিদেশি কোম্পানিদের কাছে অবারিত। ট্রাম্প সাপ আর ব্যাঙের গালে চুমু খাচ্ছেন যুগপৎ, আমাদের নেতা হেঁ হেঁ বাবু আকর্ণবিস্তৃত হেসে দেশের সব সম্পদ তুলে দিচ্ছেন আমেরিকার হাতে। হোক না খালি পেট, শরীরচর্চায় নেমে পড়ুন, এবারের হুজুগ ‘‌ফিট ইন্ডিয়া’‌।‌

জনপ্রিয়

Back To Top