সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানেই চলছে অসমে নাগরিকপঞ্জির কাজ। সেই সুপ্রিম কোর্টই দু–‌বার ক্ষোভ প্রকাশ করল। কথা ছিল, আছে, নাগরিকপঞ্জির কাজ কতটা হল, কীইবা এল, জানাতে হবে সর্বোচ্চ আদালতকে। কিন্তু, অসমে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক প্রতীক হাজেলা সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়ে দিলেন, ৪০ লক্ষ অসমবাসীর নাম বাদ!‌ ৩ কোটি ২৯ লক্ষের মধ্যে ৪০ লক্ষই বাদ। ১৬ শতাংশের বেশি। মাননীয় বিচারপতি রঞ্জন গগৈ বললেন, ঘোষণার অধিকার কে দিয়েছে প্রতীক হাজেলাদের?‌ জানানোর তো কথা সুপ্রিম কোর্টকে। ক্ষুব্ধ বিচারপতি পরে আরও বললেন, ৪০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ, এটা অস্বাভাবিক ব্যাপার। কী করে হতে পারে?‌ নির্দেশ, নমুনা হিসেবে ১০ শতাংশের নথিপত্র ফের যাচাই করা হোক, যাতে বোঝা যায়, কেন অস্বাভাবিক ব্যাপারটা ঘটল। স্পষ্টতই, পঞ্জিকরণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে অনাস্থা প্রকাশ করলেন মাননীয় বিচারপতি। ৪ লক্ষ ‘‌নমুনা’‌ বাছাই কারা করবেন?‌ বলা বাহুল্য, প্রতীক হাজেলারা। বিতর্কিত এলাকায় ঢুকতে চাইবেন না ওঁরা। এত বড় অন্যায় ঘটছে, রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা কী?‌ নিশ্চিতভাবে বিস্ময়কর। ইস্যুটা যেহেতু আর শুধু একটা রাজ্যে সীমাবদ্ধ নয়, সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে সক্রিয় নানা দলের ভূমিকা জানা দরকার। তৃণমূল কংগ্রেস ব্যাপারটাকে সংসদে নিয়ে গেছে। মন্ত্রী, বিধায়ক, সাংসদদের দল পাঠিয়েছিল শিলচরে, বিমানবন্দরেই আটকে দেয় অসমের বিজেপি সরকার। মমতা ব্যানার্জি সরাসরি দাঁড়িয়েছেন অসমের অসহায় মানুষদের পাশে। অসমে একটা মাত্র দল প্রতিবাদ জানিয়ে পথে নেমেছে, সাধ্যমতো। এসইউসি। অ–‌সম যুদ্ধ লড়তে হচ্ছে বিশেষত বঙ্গভাষীদের। সুপ্রিম কোর্ট সজাগ, রাতারাতি ভিটেছাড়া করা যাবে না ৪০ লক্ষ মানুষকে। মমতার তীব্র প্রতিবাদও চাপে রেখেছে। আগামী নির্বাচনে ভোটার তালিকা থেকে পঞ্জি থেকে বাদ–‌পড়াদের বাদ দেওয়া যাবে না। অমিত শাহরা মরিয়া, প্রচার শুনে মনে হচ্ছে, তাড়িয়েই ছাড়বেন। উদ্দেশ্য স্পষ্ট। যা হবে পরে দেখা যাবে, ২০১৯ ভোটে সঙ্কীর্ণতাবাদী, সাম্প্রদায়িক প্রচারের সুবিধা নিতে হবে। এত বড় চক্রান্তের বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে অসমের বঙ্গভাষীদের।
‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top