রবীন্দ্রনাথ অনেক স্বপ্ন নিয়ে বিশ্বভারতী গড়েছিলেন। শুধু স্বপ্ন নয়, শুধু ভাবনা নয়, ছিল তঁার কর্মোদ্যোগ। পাশেই শ্রীনিকেতন। বিশ্বভারতীতে পড়াশোনা হোক অন্যভাবে, খোলামেলা পরিবেশে, খোলামেলা মনে, চেয়েছিলেন কবি। বিশ্ব এসে মিলুক ভারতে, এই চিন্তাকে রূপায়িত করেছিলেন। বহু বছর কেটে গেছে। কিছু বদল হতে পারে। যাতে পড়ুয়ারা কর্মজীবনে সফল হতে পারেন। সদর্থক আধুনিকীকরণের কথা ভেবেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। কিন্তু মূল ব্যাপারটায় হাত পড়বে না, বিশ্বাস ছিল তঁার। ৭০ বছরেরও আগে হয়েছে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়। আচার্য–‌প্রধানমন্ত্রীরা মাঝেমধ্যে এসে ভাষণ দিলেও, বিশ্বভারতীকে উন্নত করার দিকে মত দেননি। বিশিষ্ট কিছু শিক্ষাবিদকে উপাচার্য হিসেবে পাওয়া গেছে। তঁারা যথাসাধ্য করেছেন, যাতে আরও উন্নত করা যায়। কিন্তু কেউই রবীন্দ্রনাথের স্বপ্নের শিক্ষাঙ্গনের চরিত্র বদলের কথা ভাবেননি। এখনকার ‘‌বিশিষ্ট’‌ উপাচার্য উঠেপড়ে লেগেছেন, যাতে বিশ্বভারতীর মূল চরিত্র বদল করা যায়। তিনি বহুমুখী, এই উপাচার্য। সাভারকার যে কত বড় ‘‌দেশপ্রেমিক’‌ ছিলেন, তা বোঝাতে  সংবাদপত্রে নিবন্ধ লেখেন। আন্দামান সেলুলার জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য যে–‌কুখ্যাত চিঠি লিখেছিলেন, সঙ্ঘ পরিবারের বক্তব্য প্রকাশিত, সেটা নাকি ছিল এক দেশপ্রেমিক কৌশল। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস নতুন করে লেখা হচ্ছে। উপাচার্যের দুটি উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য। মেলার মাঠকে পাঁচিল দিয়ে ঘিরে ফেলতে অনেক খেটেছেন। পৌষমেলা বন্ধ করা দরকার, মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি, বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে সশস্ত্র রক্ষী নিয়োগের জন্য। তাতে লেখা, প্রশিক্ষিত হতে হবে। যেন গুলি পায়ে মারা হয়, ওপরে নয়। ব্যবস্থা পাকা। বিশ্বভারতীকে অচলায়তন বানানোর মহৎ চেষ্টা।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top