সংবাদে প্রকাশ, জল চাইতে গিয়ে বিজেপি বিধায়কের পদাঘাত পেয়েছেন এক মহিলা। ঘটনা ঘটেছে গুজরাটে। অভিযোগ উঠেছে কার বিরুদ্ধে?‌ বিজেপি বিধায়ক বলরাম থাওয়ানির বিরুদ্ধে। শুধু অভিযোগ নয়, মহিলাকে মারধরের ছবিও প্রকাশ পেয়েছে। ভদ্রমহিলার নাম নীতু তেজওয়ানি। আমেদাবাদের নারোদায় জলের খুব সমস্যা। সেই সমস্যা নিয়ে কথা বলতে বিজেপি বিধায়কের কার্যালয়ে গিয়েছিলেন নীতু। অন্য অনেকের সঙ্গে বিক্ষোভও দেখাচ্ছিলেন। একেবারেই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ছিল। পুর সমস্যা নিয়ে যেমন হয়ে থাকে। আচমকাই তার ওপর চড়াও হল কিছু গু‌ন্ডা। অবশ্যই বিজেপি বিধায়কের চ্যালা চামুণ্ডা। নীতু তেজওয়ানি মার খেতে খেতে মাটিতে পড়ে গেলেন। তখন অফিস থেকে বেরিয়ে আসেন বিধায়ক নিজে। তিনি আর দেরি না করে মহিলাকে লাথি মারতে শুরু করেন এলোপাথাড়ি। পরে অবশ্য নিজেই অপরাধ স্বীকার করেছেন। না করে উপায় কী?‌ ছবি যে ততক্ষণে ছড়িয়ে পড়েছে। বিধায়ক বলেছেন, রাগের মাথায় করে ফেলেছি। বাইশ বছর রাজনীতি করি এমনটা করিনি কখনও। গুজরাটের বিজেপি সভাপতি এই ঘটনায় নিন্দা করেছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই ঘটনার প্রতিবাদ করেছেন। আমরা বলব, এত নিন্দার তো কিছু নেই। মাথা ঠান্ডা করে ্ভাবুন। লাথির ঘটনা কোথায় ঘটেছে?‌ ঘটেছে গুজরাটে। স্বয়ং নরেন্দ্র মোদির দুর্গ। নরেন্দ্র মোদি কে?‌ দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। তিনি এবং তাঁর দল এবার ভোটে কেমন ভাবে জিতেছেন?‌ বিপুল ভোটে। তাহলে? বিপুল ভোটে জেতা‌ দলের কোনও বিধায়ক একজন মহিলাকে দুটো লাথি মারতে পারবেন না?‌ তাই নিয়ে এত হইচই!‌ এত‌ নিন্দা!‌ আরে বাবা, তিনি তো গরুকে লাথি মারেননি, দেশের মানুষকে মেরেছেন। দেশের মানুষের এত বড় সাহস, বিজেপি–‌র এই বিপুল জয়ের পরেও খাবার জল চায়!‌ ভাবতেও অবাক লাগে। স্পর্ধা কত! আমাদের বাংলার সাংসদ মাননীয়া দেবশ্রী চৌধুরি দেশের নারী কল্যাণ রাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন। তিনি বলেছেন, বাংলার নারীকে নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করবেন। গুজরাটের নারীর কথা তো বলেননি। তাই তিনি চুপ। ঠিক করেছেন। আমাদের এই বাংলায় যারা ‘‌জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি‌ নিয়ে গর্বিত, নানাভাবে আমোদিত, সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখরিত, চুপ করে আছেন তাঁরাও। ঠিক করছেন।  সবাই বলুন, ‘‌জয় শ্রীলাথি’‌।  

ছবি: লল্লন টপ ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top