অটলবিহারী বাজপেয়ী তখন প্রধানমন্ত্রী। সংসদে গুছিয়ে বক্তব্য পেশ করছিলেন প্রণব মুখার্জি। তিন–‌চারজন বিজেপি সাংসদ চেঁচাতে থাকেন, একজন কুকথাও উচ্চারণ করেন। বাজপেয়ী উঠে দাঁড়িয়ে বলেন, এটা কী হচ্ছে?‌ প্রণব মুখার্জি দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেতা। শুধু সরকারে যোগ্যতার পরিচয় দেননি, সংসদেও তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। হল্লা না করে মন দিয়ে শুনুন, উপকার হবে। শিখুন, যাতে পরে কিছুটা ভাল বক্তৃতা দিতে পারেন। চুপ করুন। আর, যিনি কুকথা বললেন, তিনি শুধু অসংসদীয় শব্দ উচ্চারণ করেননি, চূড়ান্ত অসভ্যতা করেছেন। অবিলম্বে ক্ষমা চাইবেন। এবং পরে প্রণববাবুর কাছে গিয়ে দুঃখপ্রকাশ করবেন। শিক্ষকের, সংসদীয় শিক্ষকের অমর্যাদা করবেন না। কেউ সভ্যতার সীমা লঙ্ঘন করলে, বলা হত ‘‌দিস ইজ নট ক্রিকেট’‌। এখন অবশ্য বলা হয় না!‌ সংসদে ও বিধানসভায় অনেক শব্দ বর্জনীয়, অসংসদীয়। বললে, সভার কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেন স্পিকার। তবু কুকথা শোনা যায় মাঝেমধ্যে। সম্প্রতি বিধানসভা চলার সময়, তৃণমূল বিধায়ক নার্গিস বেগম বাম বিধায়ক জাহানারা বেগমকে কুকথা বলেন। স্পিকার তখন ছিলেন না। ডেপুটি স্পিকার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেননি। কিন্তু, নার্গিস যখন কুকথা উচ্চারণ করলেন, তখনই বিরক্তি প্রকাশ করেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, রাজীব ব্যানার্জি ও তাপস রায়। মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষের সঙ্গে কথা হয়। বিরতিতে জাহানারা যান স্পিকারের কাছে। তিনি কঠোর হওয়ার কথা বলেন। পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি সভাতে বলেন, এমন কথা বলা দুর্ভাগ্যজনক। দল অনুমোদন করে না। তাঁকে ক্ষমা চাইতে হবে। নার্গিস বেগম ক্ষমা চাইলেন। কুকথার স্থান। নেই। যেভাবে মন্ত্রীরা একসঙ্গে নিন্দা করেছেন, নার্গিসকে ভর্ৎসনা করেছেন, প্রশংসনীয়। সংশ্লিষ্ট বিধায়ক নিশ্চয় আশা করি এই পথে যাবেন না। ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top