সবাই জানে রাষ্ট্রপতি শাসন কী। এই তো কিছু দিন আগে যেমন হল মহারাষ্ট্রে। অতীতে বহুবার বহু রাজ্যে এই রাষ্ট্রপতি শাসন হয়েছে। রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি উঠেছে। সাধারণত সরকারের বিরোধীপক্ষ এই দাবি তোলে। একটি রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন মূলত দুটি কারণ দেখিয়ে করা যায়। নির্বাচনের পর হয়তো এমন কোনও সাংবিধানিক সঙ্কট হল যে, কোনও দল সরকার গড়তে পারছে না। মাঝপথেও এই সঙ্কট হতে পারে। তখন সেই রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়। যার অর্থ রাজ্যের হাতে প্রশাসনিক ক্ষমতা নেই, রাষ্ট্রপতির তরফে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের প্রশাসনিক কাজকর্ম চালায়। তার দেখভাল করেন রাজ্যপাল। আবার কখনও কোনও রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার বিপুল অবনতি হলেও রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হতে পারে। এই ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারকে ভেঙে দিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা উচিত কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বেশির ভাগ মানুষই মনে করেন, এই কাজ গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। কোনও অজুহাতেই নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা যায় না। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নেও নয়। আবার কেউ মনে করেন, এই ব্যবস্থা না থাকলে কোনও কোনও পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের সুরক্ষা প্রশ্নচিহ্নের সামনে এসে দঁাড়াতে পারে। বিশেষ করে বাইরের শত্রুর আক্রমণ বা গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হলে। বিতর্ক যা–ই থাকুক, রাষ্ট্রপতি শাসনের সুযোগ সংবিধানে রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে কোনও অশান্তি নেই, বিরোধীরা রাষ্ট্রপতি শাসনের জন্য কোনও দাবি তোলেননি, কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে এ ধরনের উদ্ভট প্রসঙ্গের কোনও অবতারণা হয়নি, তাও রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় এ কী করছেন!‌ কোন ক্ষমতায় নির্বাচিত রাজ্য সরকারের ওপর ছড়ি ঘোরাচ্ছেন?‌ হম্বিতম্বি করছেন, ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়াচ্ছেন কীসের জোরে?‌ উনি ‘‌রাজ্যপাল শাসন’‌ বলে কি নতুন কিছুর প্রবর্তন করতে চান?‌ নাকি সরকারকে বিব্রত করতে চান। যা–ই চেষ্টা করুন, সুবিধে হবে না।‌

জনপ্রিয়

Back To Top