মাননীয় রাজ্যপাল যা বলছেন, যা করছেন, তা ‌নিয়ে রোজ কথা বলার মানে হয় না।‌ কিন্তু, বলতেও হয়। তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চ্যাটার্জি বললেন, ‘‌মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তা নিয়ে কথা রাজভবনের অন্দরেই হওয়া উচিত। এমন রাজ্যপাল আগে দেখা যায়নি। রাজ্যপাল আচরণ করছেন বিজেপি নেতার মতো। ঠিক। ৩ নভেম্বর, রবিবার, সেদিনও রাজ্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে হল তাঁকে। হঠাৎ কিছু ঘটল?‌ না। বললেন ৩টি কথা। এক, মুখ্যমন্ত্রী বলছেন যে তাঁর ফোনে আড়িপাতা হচ্ছে, এ বিষয়ে তিনিই জানেন। কিন্তু তাঁর (‌রাজ্যপালেরও)‌ কাছে অনেক রাজনীতিক, শিল্পপতি, আধিকারিক বলেছেন, তাঁদের ওপর নজরদারি চলছে। পার্থবাবু প্রশ্ন করেছেন, তালিকাটা দিন রাজ্যপাল। বিজেপি নেতা ছাড়া আর একটা নামও দিতে পারবেন?‌ মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এত গুরুতর অভিযোগ করার কারণ তো আছেই। পাল্টা মন্তব্য করতে হয় রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানকে?‌ দুই, রাজ্যপাল বলছেন, কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। কত দেশ থেকে প্রতিনিধিরা আসছেন, না পেয়ে তিনি ব্যথিত। ফিল্ম দেখতে চান রাজ্যপাল?‌ সচিবকে বলবেন, ব্যবস্থা হয়ে যাবে। রাজভবনে কার্ড যায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মঞ্চে থাকতে চাইছেন?‌ কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের এটা ২৫তম বছর। আগের ২৪ বছরে একবারও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কোনও রাজ্যপাল আমন্ত্রিত হননি। হয় না। তিন, বলছেন, আবার বলছেন, জিয়াগঞ্জে সপরিবার শিক্ষক খুনের যথাযথ তদন্ত হয়নি। ভুল প্রচার করা হচ্ছে। মাননীয় জগদীপ ধনকড় জানেন না, সাত দিনের মধ্যে আততায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ?‌ উৎপল বেহরা অপরাধ স্বীকারও করেছে। পালানোর সময়ে যিনি দেখেছিলেন, সেই প্রত্যক্ষদর্শীও শনাক্ত করেছেন। জানেন না?‌ ‘‌নিজের’‌ সরকারের বিরুদ্ধে অসত্যাচার। অশুভ দৃষ্টান্ত।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top