কয়েক বছর ধরে দেশ বিদেশে বিস্তর রান করে চলেছেন বিরাট কোহলি। এত এত রান, যে, বিশেষজ্ঞরাও বলতে শুরু করেছেন, শচীন তেন্ডুলকারের সব রেকর্ড ভেঙে দিতে পারেন। একদিনের ক্রিকেটে মোট রান ও সেঞ্চুরির সংখ্যায় শচীনকে যে ছাড়িয়ে যাবেন, আগেই বোঝা যাচ্ছিল। এখন টেস্ট সম্পর্কেও একই কথা বলা যাচ্ছে। সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দেশে তো বটেই, রান করেছেন অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকাতেও। ইংল্যান্ডকে বলা হচ্ছিল ‘‌লাস্ট ব্যারিয়ার’‌। শেষ প্রাচীর। চার বছর আগে, ২০১৪ ইংল্যান্ড সফরে ১০ ইনিংসে বিরাট করেছিলেন মোট ১৩৪, গড় ১৩.‌৪০!‌ সুতরাং, উপসংহারে চলে এসো, বিলেতের মাটিতে, যেখানে বল নড়াচড়া করে, কোহলি ব্যর্থ!‌ চুপচাপ অপেক্ষা করেছেন তিনি। এবার?‌ ৬ ইনিংসে এর মধ্যেই ৪৪০। দুটো সেঞ্চুরি, একটা ৯৭, একটা ৫১। এবার ইংরেজরাও বলতে শুরু করলেন, না হে, ছেলেটা ভাল ব্যাট করে!‌ প্রশ্ন হল, কেন এতদিন মনে হচ্ছিল না?‌ সাহেবদের এক আশ্চর্য গুমোর, ওদের দেশে রান না পেলে কাউকে বড় ব্যাটসম্যান বলা যাবে না। তরুণ গ্যারি সোবার্স যখন ৩৬৫ করে তখনকার বিশ্বরেকর্ড ভাঙেন ও গড়েন, ইংরেজ সাংবাদিকরা লিখেছিলেন, আগে তো ইংল্যান্ডে এসে রান করুক, তারপর ভেবে দেখব বড় ক্রিকেটার কি না। মানতে হয়েছিল। সুনীল গাভাসকার ১৯৭৪ সালেই লড়াকু সেঞ্চুরি করেন। খেলেছেন আরও কিছু ভাল ইনিংস। তবু ওঁরা বলে গেছেন, বিলেতের মাটিতে প্রমাণ করতে হবে, নিঃসংশয়ে বড় ব্যাটসম্যান। ১৯৭৯ সালে ইংল্যান্ড সফরে গোটা সিরিজ গাভাসকারের সঙ্গে ছায়ার মতো থেকেছেন সাংবাদিক ক্লার্ক। সেখানেও এঁর–‌ওঁর কিছু সংশয় আছে। সফরের প্রথম দিকে। ওভালে ২২১ সব মুছে দিল। মোছার জন্য ওই ২২১ করতে হল। কেন?‌ অন্য দেশে সাফল্য কেন বিবেচিত হবে না?‌ ইংল্যান্ড, ‌অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকার অনেক মহারথী ভারত–‌পাকিস্তান–‌শ্রীলঙ্কায়, উপমহাদেশের ঘূর্ণি পিচে তেমন সফল নন। তবু কী করে ‘‌বড়’‌ হয়ে যান?‌ কেন ইংল্যান্ডে গিয়েই প্রমাণ করতে হবে?‌ এই প্রশ্ন ছাড়িয়ে অবশ্য এখন অবস্থান বিরাটের। বিরাট জবাব।  ‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top