ভারভারা রাও, সুধা ভরদ্বাজদের গ্রেপ্তার করে মহারাষ্ট্র সরকার (‌তথা বিজেপি)‌ দেখিয়ে দিয়েছে, ওদের ফ্যাসিস্ত ছাড়া কিছু বলা যাবে না। আসলে ‘‌ফ্যাসিস্ত’‌ হয়ে গেছে বলা যাবে কিনা, তাত্ত্বিক তর্কের আসর খুলে বসে থাকুন প্রকাশ কারাত। বরেণ্য ঐতিহাসিক ইরফান হাবিব ও রোমিলা থাপার সিপিএম–‌এর ঘনিষ্ঠ। ওঁরা স্পষ্টভাবে মত দিয়েছেন, হ্যঁা, বিজেপি ফ্যাসিস্ত। কারাত তবু পার্টি মুখপত্রে লিখে চলেন, না, এখনও অতটা বলা যায় না। থাকুন তিনি তঁার তত্ত্ব নিয়ে। আটজন জনদরদি সমাজকর্মী সম্পর্কে প্রথমে বলা হল, ওঁরা যুক্ত ছিলেন ভীমা–‌কোরেগঁাও সঙ্ঘর্ষের সঙ্গে। তারপর বলা হল, ওঁরা যুক্ত মাওবাদীদের সঙ্গে। এবং তারপর, ওঁরা যুক্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হত্যার চক্রান্তের সঙ্গে!‌ গ্রেপ্তার। বাংলার নাগরিক সমাজ থেকে কোনও প্রতিবাদ উঠে আসবে না?‌ এল। ২ সেপ্টেম্বর সকালে শিশির মঞ্চে সভা ডাকলেন শঙ্খ ঘোষ, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, বিভাস চক্রবর্তী, রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত, তরুণ মজুমদার, অশোক মুখোপাধ্যায়, চন্দন সেনরা। তীব্র প্রতিবাদ নথিবদ্ধ করলেন।  অন্তত ৩০ জন বিশিষ্ট উপস্থিত। যে–‌হলে ৪০০ জনের জায়গা, সেখানে হাজির কতজন শ্রোতা?‌ বিশিষ্টদের নিয়ে মোট ৭৫ জন!‌ বৃষ্টি ছিল। তবু, রবিবার সকালে এমন ইস্যুতে সভায় এত কম উপস্থিতি কেন?‌ কলকাতা কি প্রতিবাদে যুক্ত হতে ভুলে গেল?‌ এত প্রগতিশীল দল, সংগঠন, তাদের সদস্যরা এই সভায় উপস্থিত থাকা কর্তব্য মনে করলেন না?‌ সংখ্যা দিয়ে সব কিছুর বিচার হয় না। এমন জ্বলন্ত ইস্যুতে প্রতিবাদ যে করা গেল, ভাল কথা। শঙ্খ ঘোষরা এগিয়ে এলেন, প্রত্যাশিত ভাল কথা। কিন্তু উপস্থিতির সংখ্যা একশোতেও পৌঁছল না কেন?‌ কলকাতার দুই চনমনে শিক্ষাকেন্দ্র, প্রেসিডেন্সি ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আগুনে আন্দোলনের খবর পাই। সেই আন্দোলনকারীরাও এই সভায় আসাকে কর্তব্য বলে বিবেচনা করলেন না?‌ প্রতিবাদ ভাল। সেই ভাল ঘিরে ভাবনাও থাকল।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top