ত্রিপুরায় কেন শোচনীয় বিপর্যয় ঘটল বামফ্রন্টের, কী করে ০ আসন থেকে ক্ষমতায় পৌঁছে গেল বিজেপি, কংগ্রেস কেন এই ভোটকে গুরুত্বই দিল না, আলোচনা চলছে এবং চলবে। রাজ্য বিজেপি সভাপতি বিপ্লব দেব, বয়স ৪৮, মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন। নির্বাচনে জয় নিশ্চিত হতেই, অনেক কেন্দ্রে তখনও চলছে ভোট গণনা, কর্মীদের কাছে বার্তা দিলেন, আনন্দের তোড়ে যেন কোনও অশান্তি না হয়। যেন সিপিএম কর্মী–সমর্থকদের আক্রমণ করা না হয়। শুরুতেই কী দেখা গেল?‌ বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের কেন্দ্র ধনপুরে গণনাকেন্দ্রে হামলা। প্রথমে অন্য সব দলের এজেন্টদের হুমকি, বেরিয়ে যান। মানিক সরকার তখন এগিয়ে তিন হাজার ভোটে। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকেও হেনস্থা করা হল। তিনি অবশ্য জায়গা ছাড়েননি। গণনা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হলেন নির্বাচনকর্মীরা। অনেক চেষ্টায় পরিস্থিতি সামলে নিয়ে যখন গণনা আবার শুরু হতে যাচ্ছে, আবার হামলা। শেষ পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ হাজার ভোটে জয়ী মানিক। বিধানসভায় তাঁকে দেখতে চাননি বিজেপি কর্মীরা। বিপ্লব দেবের প্রথম আবেদনে ফল হল না। প্রথম পরীক্ষায় বিজেপি ফেল। পরীক্ষা ছিল বুথ–ফেরত সমীক্ষকদেরও। একটি সমীক্ষায় তুল্যমূল্য লড়াইয়ের আভাস ছিল। বাকি দুই সমীক্ষায় সরাসরি বেরিয়ে আসে, বিপুল ব্যবধানে জিততে চলেছে বিজেপি। বামপন্থীরা উড়িয়ে দিয়েছেন। অনেক নিরপেক্ষ মানুষও বিশ্বাস করেননি। আগাম সমীক্ষার চেয়ে বুথ–ফেরত সমীক্ষা অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য। সেই ১৯৮৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে ভোট সমীক্ষা এদেশে বহুচর্চিত। ভুল হতেই পারে। ভোটদাতারা সবসময় মনের কথা প্রকাশ করেন না। যেহেতু নমুনা–সমীক্ষা, ভুলের আশঙ্কা থেকে যায়। তবু, মানতেই হয় এ কথা, ভোট–সমীক্ষার মান এখন অনেক উন্নত। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নির্ভুল। গুজরাটে বিজেপি ৯৯–এ নেমে যাবে, অধিকাংশ সমীক্ষাই তা বলেনি। কিন্তু কমছে, আভাস ছিল। ত্রিপুরায় সমীক্ষকরা সাফল্য পেলেন। বামফ্রন্টের অপ্রত্যাশিত বিদায়ের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। সমীক্ষা পাশ!‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top