ফাঁসির আসামিদের প্রাণভিক্ষার আবেদনের হেস্তনেস্ত সাতদিনের মধ্যেই চায় কেন্দ্র সরকার। এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের কাছে আর্জিও দিয়েছে তারা। ভাল কথা। বিচার প্রক্রিয়ায় দ্রুতগতি কে না চায়!‌ কিন্তু ক্যা নিয়ে দেখা গেল উল্টোটাই। ১৯ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট ক্যা–চ্যালেঞ্জ করে জমা হওয়া ৬০টি আবেদন কেন্দ্রকে দিয়েছিল, জবাব দিতেও বলা হয়েছিল। ২২ জানুয়ারি শুনানির সময় দেখা গেল, জবাব জমা পড়েনি। ততদিনে আবেদনের সংখ্যা ১৪৪, অতএব ৬ সপ্তাহ সময় চাইলেন অ্যাটর্নি জেনারেল। ক্যা নিয়ে প্রতিটি আবেদনই মূলত এক, সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ, ধর্মনিরপেক্ষতা উপেক্ষার অভিযোগ। তবু কেন্দ্র সরকারের সুবিশাল আইন মন্ত্রকের সব আবেদন পড়ে জবাব দিতে এক মাস সময় লাগবে। অস্যার্থ, পাঁচ বিচারপতির সংবিধান বেঞ্চের কাছে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন পাঠানো পিছিয়ে দেওয়া গেল। ফাঁসির আসামিরাও তো তা–ই করছে, প্রাণপণ চেষ্টা করছে ফাঁসি পিছিয়ে দিতে। মোদ্দা কথা, সরকার সুপ্রিম কোর্টের কাছে এনআরসি বা ক্যা নিয়ে কোনও কল্যাণকামী ছবি তুলে ধরতে পারেনি। অসমে এনআরসি–র পর হাহাকার পড়ে গিয়েছে, লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছে, বহু মানুষ ডিটেনশন ক্যাম্পে, বহু মানুষ আত্মঘাতী। সবথেকে বড় কথা, সংবিধানের মূল কাঠামো নিয়েই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। সুতরাং রাস্তার লড়াই এখন আদালতে। কেন্দ্রের তরফ থেকে সাধারণ মানুষের ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার কোনও উদ্যোগ নেই, বরং বিচারের প্রক্রিয়া পিছিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ হবে তুমুল। কপিল সিবাল সরকারের ৯টি বিভ্রান্তিকর বিবৃতি তুলে ধরেছেন। সাদা চোখে আমাদের কাছে এনআরসি, এনপিআর ও ক্যা–র ‘‌ক্রনোলজি’‌ পরিষ্কার। দেখা যাক, এবার সুপ্রিম কোর্ট কী বলে।

জনপ্রিয়

Back To Top