দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ডাক্তার হতে হবে, এমন কোনও কথা নেই। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী একজন বিশেষজ্ঞই হবেন, এমন দাবি কেউ করেন না। প্রতিরক্ষামন্ত্রী হতে হলে প্রাক্তন সেনাকর্তাই হতে হবে, কেউ মনে করেন না। তবে, শিক্ষামন্ত্রীর (‌এখন দপ্তরের নাম মানব সম্পদ উন্নয়ন)‌ সঙ্গে শিক্ষার ভাল সম্পর্ক থাকবে, আশা করা হয়। যিনি উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও নেতৃত্ব দেবেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় থাকবেন, তাঁর সঙ্গে উচ্চশিক্ষার বিরাট দূরত্ব আছে, এমন কেউ আগে শিক্ষামন্ত্রী হননি। ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রীর নাম মৌলানা আবুল কালাম আজাদ। বাজপেয়ী জমানায় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী মুরলীমনোহর যোশি, যিনি পদার্থবিদ্যার কৃতী অধ্যাপক। ২০১৪ সালে অন্যরকম হল। মানব সম্পদ উন্নয়ন (‌শিক্ষা)‌ মন্ত্রী করা হল স্মৃতি ইরানিকে, যাঁর পরিচিতি ‘‌কিঁউ কি শাস ভি কভি বহু থি’‌ নামে সিরিয়াল থেকে। শিক্ষা সংক্রান্ত দপ্তরের মন্ত্রী হিসেবে ‘‌গুরুদায়িত্ব’‌ পালনের পর যান বস্ত্রে। বস্ত্র মন্ত্রকে। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর শিক্ষাদীক্ষা কতদূর?‌ ২০০৯ সালে লোকসভা ভোটে প্রার্থী হওয়ার সময় হলফনামায় জানিয়েছিলেন তিনি বাণিজ্যের স্নাতক। ২০১৪ সালে তাঁর হলফনামা:‌ কলা বিভাগে স্নাতক!‌ সত্যি কী ও কতদূর?‌ দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্দেশ গেল, কিছুতেই যেন প্রকাশ করা না হয়। এবার আমেঠি কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থীর হলফনামা কী বলছে?‌ স্মৃতি জানাচ্ছেন, তিনি উচ্চমাধ্যমিক পাশ। প্রথম পাঁচ বছরে স্নাতক ডিগ্রির বিষয় পাল্টে গিয়েছিল। পরের পাঁচ বছরে যা দাঁড়াল, তিনি স্নাতকই নন। প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে হলফনামায় বলেছিলেন, আমেরিকার সুপরিচিত ইয়েল ইউনিভার্সিটির ডিগ্রিও আছে তাঁর। ইনিই বেশ কিছুদিন থেকেছেন দেশের শিক্ষার দায়িত্বে। অবশ্য, তাঁর পক্ষেও বলার আছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, তিনি স্নাতক। পাঁচ বছরে চেষ্টা করেও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নথি বা তথ্য বার করা যায়নি। সর্বোচ্চ নেতাকে অনুসরণ করাই যায়।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top