শ্যামাপ্রসাদের মূর্তিতে ছেনি–‌হাতুড়ি চালাল অতি–‌বামপন্থী ‌র‌্যাডিক্যাল–‌এর জনা সাতেক তরুণ কর্মী। মুখে কালি মাখাতেও ভুলল না। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, অবিলম্বে সারানো হবে মূর্তি। ত্রিপুরায় লেনিন–‌মূর্তি ভাঙার প্রতিবাদে নাকি ওই সাতজনকে বীরত্বটা দেখাতে হল। দুষ্কাণ্ডের জবাবে দুষ্কাণ্ড। কার্যত ওঁরা মূর্তি ভাঙার পক্ষেই দাঁড়ালেন। দুর্ধর্ষ প্রতিক্রিয়া রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের। ‘‌লেনিনের বাচ্চাগুলোকে উচিত শাস্তি দেব, আগে একবার বলেছিলাম, তারপর লেজ গুটিয়ে ভেতরে ছিল কিছুদিন। এবার ক’‌দিন জেল খেটে বেরোক। দৌড় করিয়ে ছাড়ব।’‌ ‘‌আগে একবার’‌ কী বলেছিলেন দিলীপবাবু?‌ ‘‌ওগুলোর ছাল ছাড়িয়ে নেব’‌। ছাল ছাড়ানোর, দৌড় করানোর ইচ্ছা খুবই ‘‌পবিত্র’‌। লেনিন–‌মূর্তি ভাঙা নিয়ে তাঁর বক্তব্যও অসাধারণ:‌ ‘‌পঁচিশ বছর অনেক অত্যাচার করেছে সিপিএম, একটু মার খেতেই হবে, সবটাই তো নিরামিষ হবে না’‌। দিলীপ ঘোষ এ রাজ্যের বেশ গুরুত্বপূর্ণ নেতা। নিজেদের বলছেন ‘‌দ্বিতীয় শক্তি’‌, যাঁরা অদূর ভবিষ্যতেই নাকি বাংলায় ক্ষমতায় আসবেন। দিবাস্বপ্ন দেখতে ট্যাক্স দিতে হয় না। কিন্তু কুৎসিত কুকথা চালিয়ে গেলে রাজ্যবাসী জবাব দেবেন, গণতন্ত্রের ভাষায়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্রছাত্রী যা করেছেন, কোনও সুস্থ মানসিকতার মানুষ সমর্থন করবেন না। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, যাদবপুরে কত ভাল লেখাপড়া হয়, কত কৃতী ছাত্রছাত্রী আছে, পাঁচ–‌সাতজনের জন্য বদনাম হয়ে যাচ্ছে।‌ বাংলার সুনাম নষ্ট করে দেওয়ার অধিকার ওদের কে দিল?‌ দিলীপ ঘোষদের উদ্দেশ্য ভিন্ন— যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়েরই সর্বনাশ করা। রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে দেশে এক নম্বর হয়েছে যাদবপুর। ‘‌সেন্টার অফ এমিনেন্স’‌ আখ্যা পেয়ে পঠন–‌পাঠন ও গবেষণায় আরও উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা। দিলীপবাবু দিল্লিতে চিঠি পাঠিয়েছেন, যেখানে দেশবিরোধী কাজ হয়, সেই বিশ্ববিদ্যালয়কে যেন বিশেষ মর্যাদা না দেওয়া হয়। বাংলার বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষতি করার উদ্যোগ। এই না হলে ‘‌‌বাংলার নেতা’‌!‌‌ ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top