রাজ্য সরকারের ‘‌সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’‌–‌এর স্লোগান বহুল প্রচারিত। নিরাপদে গাড়ি–‌বাইক চালান, জীবন বাঁচান— নিজের, অন্যেরও। প্রচারে কাজ হয়েছে কিছুটা, কিন্তু তবু কিছু লোকের কানে ঢুকছে না। মোটরবাইক অনেকের কাছেই প্রয়োজনীয়। কাজের জায়গায় যেতে ও বাড়ি ফিরে আসতে, নানা প্রয়োজনে বেরোনোও তাঁদের কাছে অপরিহার্য। তাঁরা ‘‌সেফ ড্রাইভ’‌–‌এর নিয়ম মেনে চলেন। পোক্ত হেলমেট পরেন, সঙ্গে স্ত্রী বা সন্তান থাকলে তাদের জন্যও হেলমেট থাকে। যারা নিয়ম মানতে নারাজ, তাদের আটকাতে পুলিশ কড়া হয়। হেলমেটবিহীন চালক দেখলেই জরিমানা। এই লোকেরা ফাঁকির রাস্তায় গেল। সস্তার হেলমেট নেয় দুশো টাকায়, পুলিশের পক্ষে বোঝা সম্ভব হয় না। বেশ কিছু ঘটনায় দেখা গেল, ফাঁকি–‌দেওয়া হেলমেট পরিহিতরা বিপদে পড়ল। সে কথা খবরে জানা গেল, তবু সস্তার হেলমেট কেনা থামল না। পুলিশ সক্রিয়। দেখা যাক। আর, বাইকে ভয়ঙ্কর গতি। কিছু উচ্ছৃঙ্খল তরুণ নিরাপত্তার কথা ভুলে অতিরিক্ত গতিতে বাইক চালায়, বাইক–‌রেস করে। যাঁরা বিত্তবান, তাঁরা পুত্রদের গাড়ি কিনে দেন। যাঁর যত টাকা, তাঁর সন্তানের তত দামি গাড়ি। মার্সিডিজ, জাগুয়ার.‌.‌.‌। নিয়মমতো লাইসেন্স একটা থাকে, কিন্তু আসল লাইসেন্স বিত্ত। এরা হাওয়ায় ওড়ে। উড়তে চায়। একশো কিলোমিটারের বেশি বেগে গাড়ি চালায়। নেশা। বায়ুসেনা কর্মী অভিমন্যু গৌড়কে এভাবেই চাপা দিয়েছিল এক ধনী যুবক। সম্প্রতি আরসালান–‌এর মালিকের পুত্র রাতে বীভৎস গতিতে গাড়ি চালিয়ে ধাক্কা মারল অন্য গাড়িতে, সেই গাড়ি ছিটকে গিয়ে পিষে দিল দুই বাংলাদেশিকে। ব্যক্তির বুদ্ধিতে, পরিবারের উদ্যোগে বড় হয়েছে সংস্থা। ভাল কথা। কিন্তু বিত্তের সঙ্গে মারণ নেশার বন্ধন তো আশ্চর্য নয়। যে অভিভাবকরা তীব্র গতিযুক্ত দামি গাড়ি তুলে দেন সন্তানের হাতে, শাসন করার দায় নেই তাঁদের?‌ 

জনপ্রিয়

Back To Top