বিশেষত দক্ষিণ ভারতে সিনেমা জগৎ থেকে রাজনীতিতে এসে বড় দাগ রাখার ঘটনা বিরল নয়। অন্ধ্রে এনটি রাম রাও, তামিলনাড়ুতে এমজি রামচন্দ্রন মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, রাজনীতিক হিসেবেও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছেন। তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী করুণানিধিও এসেছেন সিনেমা জগৎ থেকে। চিত্রনাট্যকার হিসেবে হয়ে উঠেছেন কার্যত সুপারস্টার। এমজি রামচন্দ্রনের পর তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তথা এডিএমকে–‌র অবিসংবাদিত নেত্রী জয়ললিতা। এখনও এঁদের নামে ভোট হয়। এমজিআর–‌এর মৃত্যুর পর শতাধিক মানুষ আত্মহত্যা করেছিলেন, যাঁরা তাঁর গুণমুগ্ধ, অনুগামী। দশ বছর ধরেই শোনা যাচ্ছে, রজনীকান্ত রাজনৈতিক দল গড়ছেন। তামিলনাড়ুতে বড় বদল এনে দিতে চান। একটা সময়ে বলা হত, ভোটের আগে যে দলের হয়ে একটু বলবেন, একটা বিবৃতি, সেই দল এগিয়ে যাবে। সন্দেহ নেই, রজনীকান্ত বিখ্যাত তারকা। এমটিআর ও এমজিআর–‌এর চেয়েও তাঁর ভক্তের সংখ্যা বেশি। প্রধানত তামিল ছবিতে অভিনয় করেই তিনি দেশের সবচেয়ে বড় স্টার হতে পেরেছেন। একই সঙ্গে উচ্চারিত হয়েছে অমিতাভ ও রজনীর নাম। রজনীকান্তকে নিয়ে কয়েকটা বই লেখা হয়েছে, তাঁকে নিয়ে বহু মজার গল্পও প্রচারিত। সেই রজনী দেখলেন, তাঁর সমর্থন কোনও দলের জয় সুনিশ্চিত করছে না। বললেন, নিজে দল গড়বেন। দুই শক্তিশালী আঞ্চলিক দলের বাইরে কেউ সরকার গড়ে না তামিলনাড়ুতে, একদা কংগ্রেস শক্তিশালী ছিল কিছুটা। রজনীকান্ত বিজেপি–‌ঘনিষ্ঠ, রাজ্যে বিশ্বাসযোগ্য হননি, দল গড়া থেকে বিরত। সম্প্রতি বললেন, ‘‌নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ কৃষ্ণার্জুন।‌ কে কৃষ্ণ, কে অর্জুন তা জানি না।’ আমরা জানি, রাজনীতিতে ইতি রজনীকান্ত।

জনপ্রিয়

Back To Top