কেন্দ্র সম্প্রতি নতুন ট্রাফিক আইন করেছে। মন্ত্রী নীতিন গাডকারি বলেছেন, এটা যুগান্তকারী। এর ফলে পথদুর্ঘটনা কমে যাবে নিশ্চিত। প্রথম কথা, এ বিষয়ে আইন রাজ্যে রাজ্যে চালু করার ক্ষমতাই নেই কেন্দ্রের। বিষয়টা সংবিধানে রাজ্যের তালিকাভুক্ত। যা করার অধিকার নেই, তা করার মানে কী?‌ ট্রাফিক আইন ভাঙলে জরিমানার পরিমাণ বিপুলভাবে বাড়ানো হয়েছে। শুনতে ভাল, জরিমানা বেশি হলেই নানা গাড়ির চালকরা সতর্ক হয়ে যাবেন, ক্রমশ দুর্ঘটনাই আর ঘটবে না! এই যুক্তি নিয়ে সময় নষ্ট করে লাভ নেই। ওঁরা এরকমই করে যাবেন, বলে যাবেন। হরিয়ানার এক স্কুটি চালককে জরিমানা করা হয় ২৫ হাজার টাকা। মুখ্যমন্ত্রী খট্টর লাগু করেছেন কেন্দ্রীয় আইন। স্কুটি যাঁর, তিনি বললেন, পুরনো, এখনকার দামইতো ২৫ হাজার টাকার কম‌। ফাইন দেব কেন, বাজেয়াপ্ত করে নিন। এক ট্রাকচালককে জরিমানা করা হয়েছে ১ লক্ষ ৪১ হাজার টাকা। চালক নিরুপায়। মালিক নির্বিকার। লরি চালক কাজ হারিয়েছেন। শাস্তি!‌ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, এই জঘন্য আইন রাজ্যে চালু হবে না। ‘‌সেফ ড্রাইভ, সেভ লাইফ’ কর্মসূচিতে সাফল্য পাওয়া যাচ্ছে, দুর্ঘটনা কমানোর জন্য চেকিং বাড়ানো হয়েছে, নেওয়া হচ্ছে আরও ব্যবস্থা, নিশ্চয় কমবে। নবীন পটনায়েক বলেছেন, ওড়িশায় আইনটা লাগু করার কথা ভাবছেনই না। কিছুতেই নয়। অ–‌বিজেপি সরকার অসহযোগিতা করেছে?‌ যেহেতু কেন্দ্র বলেছে, বিজেপি সরকারগুলোও কি মেনে নিচ্ছে, লাগু করছে?‌ না। মহারাষ্ট্র সরকার বলে দিয়েছে, না। উত্তরাখণ্ড, না। কর্ণাটক, না। এমনকী খোদ মোদিরাজ্য গুজরাটও জানিয়েছে, মানা যায় না, জরিমানা নেওয়া হবে কেন্দ্রের নির্ধারিত হারের তুলনায় ৯০%‌ কমিয়ে! দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বললেন, দুর্ঘটনা বেড়েছে, কারণ এই জমানায় খারাপ রাস্তা নেই, সব মসৃণ। সবাই অতিরিক্ত গতিতে চালাচ্ছে!‌ কী ভাবছে কেন্দ্র, রাস্তা যেটুকু ভাল আছে খারাপ করে দেবে, যাতে দুর্ঘটনা কমে?‌‌‌ ‌

জনপ্রিয়

Back To Top