দরজায় টোকা নয়। পরীক্ষায় টোকা। নির্বাচনী পরীক্ষায় ‘‌এক্সপায়ারি প্রধানমন্ত্রী’‌ দেখিয়ে দিচ্ছেন, টোকা কাকে বলে। পরীক্ষার্থী প্রস্তুত না থাকলে, টোকাটুকির আশ্রয় নিতে হয়। মোদিজি প্রস্তুত নন। পাঁচ বছর আগে যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, পাশ করতে পারেননি। উল্টে একের পর এক মারাত্মক সিদ্ধান্তে ও কাজে দেশকে পথে বসিয়েছেন। ভোটের সভায় সেনাবাহিনীর সাফল্যকে নিজের সাফল্য বলে চালাচ্ছেন, নির্বাচন কমিশন চুপ করে আছে, হিংস্র উগ্র জাতীয়তাবাদ ছড়াচ্ছেন, সাম্প্রদায়িকতা ছড়াচ্ছেন, তবু ভোটের চিঁড়ে ভিজছে না। নতুন কোনও স্লোগান তাঁর কাছে নেই। বিদেশে গচ্ছিত কালো টাকা ফিরিয়ে এনে সবার অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ দেওয়া, বছরে ২ কোটি চাকরি— কিছুই হয়নি। নতুন প্রতিশ্রুতি দেওয়ার মুখ নেই। নতুন স্লোগানও নেই। পাঁচ বছর আগে নিজেকে ‘‌দেশের চৌকিদার’‌ বলেছিলেন। নোটবন্দি করে বহু মানুষকে সর্বস্বান্ত করেছেন। রাফাল মামলায় পরিষ্কার, কেলেঙ্কারি প্রায় ৫৪ হাজার কোটি টাকার। রাহুল গান্ধী আওয়াজ তুললেন, ‘‌চৌকিদার চোর হ্যায়’‌। বিপুল সাড়া পেলেন। পাল্টা কোনও  আওয়াজ, কোনও জবাব?‌ না। টোকা। মোদি দলের সবাইকে বললেন, নিজেদের নামের পাশে ‘‌চৌকিদার’‌ বসাতে। কার্যত স্লোগান:‌ ‘‌ম্যায় ভি চৌকিদার হ্যায়’‌। সুষমা স্বরাজ, গাডকারিরা প্রথমে সাড়া দেননি, পরে মানলেন। ‘‌চৌকিদার’‌ শব্দটাই এখন মোদিকে আক্রমণ করছে। বাংলায় এসে মমতার ‘‌জগাই মাধাই’‌ টুকলেন, বললেন। ১৯৯৮ সালে মমতার চমকপ্রদ স্লোগান:‌ ‘‌চুপচাপ, ফুলে ছাপ’‌। মোদি বললেন, ‘‌চুপে চাপ, কমল ছাপ’‌। ভাষা ভুল। ছেড়ে দিন। নির্লজ্জ টোকা ছাড়া আর কী?‌ দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী, যিনি টোকায় চ্যাম্পিয়ান হলেন!‌‌  ‌

জনপ্রিয়

Back To Top