মোবাইল ফোন নিয়ে কড়াকড়ি হয়েছে স্কুলে। ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে মোবাইল ফোন নিয়ে যেতে পারবে না। শিক্ষক–‌শিক্ষিকারা ক্লাসে বা ল্যাবরেটরিতে মোবাইল ফোন নিয়ে যেতে পারবেন না। এর অন্যথা হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মধ্যশিক্ষা পর্ষদ এই নিয়ম জারি করেছে। অতি উত্তম সিদ্ধান্ত। আগেই করা উচিত ছিল। তবে  ভাল সিদ্ধান্ত দেরিতে হলেও ভাল। স্কুলে পড়া ছেলেমেয়েদের হাতে মোবাইল ফোন কেন থাকবে?‌ শুধু স্কুলে নয়, স্কুলের বাইরেও থাকবে না। নেশার দ্রব্য যেমন একটি নির্দিষ্ট বয়েসের আগে কেনা যায় না, মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রেও সেই নিয়ম হওয়া উচিত। সাবালক না হলে মোবাইল বিক্রি, ব্যবহার নিষিদ্ধ। ছোটদের কাছে মোবাইল ফোন ‘‌নেশা’‌ ছাড়া আর কী?‌ অপরিণত বোধ–‌বুদ্ধি নিয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহারের অর্থ সর্বনাশ ডেকে আনা। স্কুলে শিক্ষক–‌শিক্ষিকাদের ক্ষেত্রেও মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিধিনিষেধ যথোপযুক্ত। শিক্ষকের অসংযত মোবাইল ফোনের ব্যবহার ছোট ছেলেমেয়েদের ভুল বার্তা দেয়। একই কথা স্কুলের বাইরেও। বাড়ির বড়দের মোবাইল ফোন নিয়ে সদা ব্যস্ত হতে দেখলে ছোটরা কীসে উৎসাহ পাবে?‌ তবে সেক্ষেত্রে তো বিধি নিষেধ লাগু করা যায় না, বড়দের বুঝতে হবে নিজে থেকেই। নিজে মোবাইলে ডুবে থেকে ছেলেমেয়েকে মোবাইল নিয়ে শাসন করা যায় না।  স্কুলের মতো সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই মোবাইল ফোনের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনা হোক। অনেক বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই এই নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। সরকারিতেও আসুক। এতে শুধু শিক্ষার, কাজের মানোন্নয়ন হবে না, অনেক সামাজিক ‘‌অসুখ’ থেকে যুব সমাজকে মুক্ত রাখা যাবে।‌  

জনপ্রিয়

Back To Top