ক্লাইভ রো। অ্যাঞ্জেলা মার্কেন্টাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস কোম্পানির অফিস ওখানেই। আর্থিক দুর্নীতির দায়ে ওই কোম্পানিতে কলকাতা পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। খবর হিসেবে এমন কিছু নয় যে কাগজের প্রথম পাতায় বড় শিরোনামে ঠাঁই পাবে। কিন্তু এবার যদি জানাই, ওই কোম্পানি থেকেই অবৈধ টাকা গেছে সিবিআইয়ের অস্থায়ী অধিকর্তা নাগেশ্বর রাওয়ের স্ত্রী ও কন্যার নামে, তাহলে আপনারা একটু নড়েচড়ে বসতেও পারেন। দুয়ে দুয়ে চার করে দেখুন, নাগেশ্বরের ঠিক বিদায়মুহূর্তে কেন কলকাতার নগরপাল রাজীব কুমারের বাড়িতে হামলা করলেন সিবিআইয়ের চল্লিশ অফিসার!‌ একজন এডিজি পদমর্যাদার পুলিশকর্তার সরকারি বাসভবনে ছুটির দিন সন্ধেয় চল্লিশজন গোয়েন্দা পাঠাতে হল!‌ তাও হাতে লেখা চিঠি নিয়ে!‌ বিষয়টি এত গুরুত্বপূর্ণ হলে পৌনে পাঁচ বছর কী করছিল সিবিআই?‌ কেন আদালতে গিয়ে রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে পরোয়ানা আদায় করে আনা গেল না?‌ কারণ একটাই, নিশ্চিত কোনও প্রমাণ তাদের কাছে ছিল না। অলোক বর্মাকে উৎখাত করা হয়েছিল মধ্যরাতে, তাঁর বিরুদ্ধে নাকি নানা অভিযোগ সিভিসি–‌র কাছে। পাল্টা অভিযোগ তো সেই রাকেশ আস্থানার বিরুদ্ধেও যাঁকে ‘‌আউট অফ টার্ন’‌ স্পেশ্যাল ডিরেক্টর পদে নিয়োগ করেছিল মোদির সরকার। আস্থানাকে কেন জেরা করা যাবে না?‌ কেন রাজীব কুমারকে জেরা করতেই হবে?‌ এই বিনীত প্রশ্নটি মোদি–‌শাহ–‌ডোভাল ত্রয়ীর কাছে করতেই পারি আমরা। মোদি ২০১৪ সালের প্রচারে দুর্নীতির তদন্তে ফাস্ট ট্র‌্যাক কোর্ট, লোকপাল আর নির্বাচনী তহবিল নিয়ে বিরাট প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কী হল?‌ ৫ বছরে ক’‌জনের দুর্নীতি প্রমাণ করে আদালতে বিচারের জন্য পেশ করতে পারলেন?‌ এবার ওই ত্রয়ীর তিন তোতাপাখি, সিবিআই–‌ইডি–‌আয়করের ভূমিকা নিয়ে আমরা প্রশ্ন তুলব, তুলতেই থাকব।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top